ওয়াশিংটন-নয়াদিল্লি সম্পর্কের সংকট: বাণিজ্য ও কূটনীতি দুইপাশেই উত্তেজনা
মার্কিন-ভারত সম্পর্ক বর্তমানে একটি সংকটময় পরিস্থিতির মুখে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি আমেরিকা চীনের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষাকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়, তবে এই সম্পর্কগুলোকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জরুরি। জাতিসংঘে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি সতর্ক করে দিয়েছেন, “এ সম্পর্ক ভেঙে গেলে বিশ্ব বাণিজ্য আরও বেশি করে চীনের হাতে চলে যেতে পারে।”
শুল্ক যুদ্ধ ও নতুন বাণিজ্য ধারা
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ভারতীয় পণ্যের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এর প্রেক্ষিতে ভারত দীর্ঘদিনের বাণিজ্য সহযোগী রাশিয়ার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ার চেষ্টা করছে। ভারতের বিদেশমন্ত্রী এস. জয়শংকর মস্কোর সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক আরও মজবুত করার বার্তা দিয়েছেন।
নিকি হ্যালি বলেছেন, “চীন ও ভারতের সঙ্গে কখনই একইভাবে ব্যবহার হওয়া উচিত নয়। শুল্ক বা ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে আমেরিকার ভূমিকা নিয়ে বিভেদ তৈরি করা উচিত নয়।” তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, ট্রাম্প প্রশাসনের কূটনীতির মূল লক্ষ্য চীনকে পরাজিত করা এবং শক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, যা ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক মসৃণ রাখার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ভারতকে ‘মুক্ত অংশীদার’ হিসেবে বিবেচনা
“ভারতকে অবশ্যই মুক্ত ও গণতান্ত্রিক অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করা উচিত—চীনের মতো প্রতিপক্ষ নয়, যেটি এখনও পর্যন্ত রাশিয়ার তেল ক্রয়ের জন্য নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলেছে।” – নিকি হ্যালি
হ্যালি আরও জানিয়েছেন যে, স্বল্পমেয়াদে চীন থেকে গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ শৃঙ্খল সরিয়ে নিতে ওয়াশিংটনকে সাহায্য করার জন্য নয়াদিল্লি অপরিহার্য। একই সময়ে রাশিয়া ভারতের প্রতি উদার ভূমিকা পালন করছে। সম্প্রতি সেপ্টেম্বর ও অক্টোবর মাসের জন্য রাশিয়াকে বিপুল পরিমাণ তেলের বরাত দেওয়া হয়েছে। ব্যারেলপ্রতি তিন ডলার ছাড় পাওয়ায় এটি ভারতের জন্য উল্লেখযোগ্য সাশ্রয় হিসেবে কাজ করবে।
বিশ্ব রাজনীতি ও বাণিজ্য পরিস্থিতি: ভাবনার খোরাক
মার্কিন-ভারত-রাশিয়া-বাণিজ্য পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দেখায়, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ছোট বা বড় কোনো দেশই এককভাবে স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারছে না। প্রশ্ন হল, এই দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক চাপের মধ্যে ভারত কীভাবে নিজের স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক অবস্থান বজায় রাখবে?
