হাসিনাকে কেন ফেরত পাঠানো হচ্ছে না, মোদিকে প্রশ্ন আসাদউদ্দিন ওয়েইসির

ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য তেলেঙ্গানার রাজধানী হায়দরাবাদের এমপি ও দেশটির রাজনৈতিক দল অল ইন্ডিয়া মজলিস-ই-ইত্তেহাদুল মুসলিমিন (এআইএমআইএম) প্রধান আসাদউদ্দিন ওয়েইসি বলেছেন, ‘‘যদি ভারতের সরকার সত্যিই দেশ থেকে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ ফেরত পাঠাতে চায়, তাহলে প্রথমে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকেই ফেরত পাঠানো উচিত।’’ শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ভারতে বসবাস করছেন।

ভারত থেকে ‘অবৈধ বাংলাদেশিদের’ ফেরত পাঠানোর বিষয়ে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ‘আইডিয়া এক্সচেঞ্জ’ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আসাদউদ্দিন মোদি সরকারকে প্রশ্ন করেন, কেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘‘তিনিও তো বাংলাদেশি, তাই না?’’

ওয়েইসি অভিযোগ করেন, ‘‘ভারতে যিনি বাংলা ভাষায় কথা বলবেন, তিনিই বাংলাদেশি হয়ে যাচ্ছেন।’’ তিনি জানান, বিহারে চলমান ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় প্রকৃত নাগরিকদের নাম বাদ পড়ছে, বিশেষত মুসলিম সম্প্রদায়ের।

আসাদউদ্দিন ওয়েইসি ভারত সরকারের সংখ্যালঘু নীতির প্রতি বিরোধিতাও জানান। তিনি বলেন, সরকার সংখ্যালঘুদের অধিকার নিয়ে সংলাপ বা রক্ষার ক্ষেত্রে নীরব থাকে। ৭/১১ ট্রেন বিস্ফোরণ ও ২০০৮ সালের মালেগাঁও বিস্ফোরণ বিষয়েও রাজনৈতিক দলগুলো মুখ খোলে না।

তিনি মধ্যপ্রাচ্যের প্রসঙ্গ টেনে গাজায় চলমান যুদ্ধ এবং মোদি সরকারের নীরবতার সমালোচনা করেন। ওয়েইসি অভিযোগ করেন, ‘‘বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বে ইসরায়েলের গণহত্যা চলার সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি নীরব। গাজায় ৬৫ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার মধ্যে ২০ হাজার শিশু।’’

ওয়েইসি জোর দিয়ে বলেন, ‘‘ভারত সরকার পরোক্ষভাবে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে সমর্থন করছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে নীরব থাকার মাধ্যমে এ সমর্থন প্রদর্শন করছে।’’

📌 আসাদউদ্দিন ওয়েইসির মন্তব্য ভারতের সংখ্যালঘু নীতি, বাংলাদেশি রাজনৈতিক আশ্রয়প্রাপ্তির প্রশ্ন এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার পরিস্থিতির উপর গুরুত্বারোপ করে।

Next News Previous News