কট্টর রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান ড. নাজনীনের সচিব পদে পদোন্নতি ঘিরে তোলপাড়
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে এক বছর আগে ক্ষমতাচ্যুত হয় একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল। শীর্ষ নেতাদের অনেকে দেশ ছাড়লেও প্রশাসনে তাদের প্রভাব রয়ে গেছে অটুট—এমন অভিযোগ উঠছে নানা মহলে। সম্প্রতি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন ড. নাজনীন কাউসার চৌধুরী, যিনি সচিব পদে উন্নীত হয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন।
ড. নাজনীনের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে সক্রিয়। তাঁর বাবা ছিলেন ভাষাসংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধা। ভাই এবং খালা উভয়েই বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের দায়িত্বশীল পদে রয়েছেন। ফলে তাঁর পদোন্নতি ঘিরে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, নাজনীনের পদোন্নতি শুধু তাঁর দক্ষতার কারণে নয়, রাজনৈতিক পারিবারিক পরিচয়ও বড় ভূমিকা রেখেছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের একটি সুপারিশপত্র এখন আবার আলোচনায় এসেছে। তৎকালীন এক মন্ত্রীর ভাষায়, “ড. নাজনীন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে তিনি আওয়ামী পরিবারের সন্তান বলেই তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ পদে দেওয়া উচিত।”
এই সুপারিশপত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। অনেক কর্মকর্তা বলছেন, অভ্যুত্থানের পরও প্রশাসনে এখনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেটওয়ার্ক সক্রিয়, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগে।
ড. নাজনীন এর আগে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন এবং চা বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে কাজ করেছেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও তাঁর অভিজ্ঞতা রয়েছে, যেমন বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে বাংলাদেশ দূতাবাসে কাজ করা।
সর্বশেষ আপডেট
সম্প্রতি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ভেতরে আলোচনায় এসেছে যে, আরও কয়েকজন কর্মকর্তা, যাদের পারিবারিকভাবে একই রাজনৈতিক ঘরানার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তারাও পদোন্নতির অপেক্ষায় আছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আস্থার সংকট আরও বাড়তে পারে।
প্রশ্ন হলো: দেশের প্রশাসনে কি এখনো রাজনৈতিক প্রভাবই বড় ভূমিকা রাখছে, নাকি এটি শুধুই অভিজ্ঞতা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন?—এ নিয়ে জনমনে জোর বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
