রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তনের আহ্বান

রাজনীতিতে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হলে সাংঘর্ষিক সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি গণতান্ত্রিক ও জবাবদিহিমূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে—এমন আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা। তাঁর ভাষায়, “শত সংস্কার করেও লাভ হবে না, যদি মৌলিক পরিবর্তন না আসে।”

রাজধানীর গুলশানে এক সেমিনারে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, “দেশে স্বৈরাচারী শাসন ব্যবস্থার অবসানে মানুষের মনোজগতে বড় পরিবর্তন এসেছে। রাজনৈতিক দল ও নেতাদের এই পরিবর্তন অনুধাবন করতে হবে।” তাঁর মতে, মুক্ত মতপ্রকাশের সুযোগ অব্যাহত থাকলে অনেক জটিল সমস্যার সমাধান সহজ হবে।

বক্তা আরও উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশের ইতিহাস প্রমাণ করে—বিপ্লব-পরবর্তী সময়ে যারা দ্রুত গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরতে পেরেছে, তারা সফল হয়েছে। বিপরীতে, যারা তা পারেনি, তারা গৃহযুদ্ধ ও অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। “জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচন করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই,” তিনি জোর দিয়ে বলেন।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি জানান, মানি লন্ডারিং বন্ধ হওয়ায় রেমিট্যান্স ও রপ্তানি আয় বেড়েছে, ফলে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ও বিনিময় হার স্থিতিশীল হয়েছে। তবে বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিকে অগ্রাধিকার না দেওয়াকে তিনি ভুল বলে আখ্যায়িত করেন।

বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করতে “সিরিয়াস ডিরেগুলেশন” প্রয়োজন বলে তিনি মত দেন। তাঁর ভাষায়, “যত বেশি রেগুলেশন, তত বেশি দুর্নীতি।” তিনি চান, বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এসে সরাসরি অনলাইনে কোম্পানি নিবন্ধন করতে পারেন।

স্বাস্থ্য ও শিক্ষার উন্নয়নে ইউকে মডেলের ‘ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার’ চালুর ঘোষণা দেন তিনি, এবং মাধ্যমিক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানান। এ জন্য জিডিপির ৫ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় বরাদ্দের লক্ষ্য স্থির করেছেন তিনি।

দক্ষতা উন্নয়ন, সৃজনশীল অর্থনীতি, ট্যাক্স নেট সম্প্রসারণ ও বৈদেশিক বাংলাদেশিদের জন্য ইতিবাচক নীতি—এসবকেই তিনি দেশের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। কর্মসংস্থান ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে দল ও নেতাদের প্রস্তুত থাকার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।

প্রশ্ন রইল: রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে এই প্রস্তাবিত পরিবর্তনগুলো কি বাস্তবে দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রে দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারবে?

Next News Previous News