দেশ ছাড়ার আগে শেখ হাসিনার সঙ্গে তাপসের ফোনালাপ ফাঁস: আন্দোলনের উত্তাল প্রেক্ষাপটে চাঞ্চল্য
গত বছরের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের ঢেউয়ে নড়বড়ে হয়ে পড়ে দেশের রাজনৈতিক পরিসর। আন্দোলনের উত্তাল পরিস্থিতিতে ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে চলে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—এমনই দাবিতে সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে একটি অডিও ফোনালাপ।
সরকার পতনের আগে থেকেই অনেক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা দেশত্যাগের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে গুঞ্জন ছিল। এরই মধ্যে আলোচনায় এসেছে শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ও তৎকালীন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের পালিয়ে যাওয়া এবং শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কথোপকথনের অডিও।
ফেসবুকে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের প্রকাশ করেছেন এই কথিত ফোনালাপ, যা দুইটি অংশে বিভক্ত। সায়েরের দাবি অনুযায়ী, প্রথমটি ২২ জুলাই দুপুর ১১টা ৪৯ মিনিটে এবং দ্বিতীয়টি ৩ আগস্ট সকাল ৮টা ১৬ মিনিটে রেকর্ড করা।
প্রথম অডিওতে শোনা যায়, তাপস কৌতূহল ও আবেগময় ভঙ্গিতে বলেন—“হাসুমনি, একটু আসতে চাচ্ছিলাম, তোমাকে দেখতে চাচ্ছিলাম, আসব?” জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, “এসবের মধ্যে আসার দরকার নেই।” এরপর তাপস জিজ্ঞেস করেন, “তাহলে (কারফিউ) শিথিল হওয়ার পর আসি?” উত্তরে হাসিনা বলেন, “আমি তখন অফিসে থাকব। ব্যবসায়ীদের ডাকছি তো। ২-৩টার সময়।”
দ্বিতীয় অংশটি আরও গুরুত্বপূর্ণ। এখানে তাপস শেখ হাসিনাকে ফোন করে জানান, “আমি একটু সিঙ্গাপুর যেতে চাচ্ছিলাম, যাব?” শেখ হাসিনা প্রথমে অনুমতি দিলেও, বুঝতে পারেননি যে তাপস ইতোমধ্যেই এয়ারপোর্টে পৌঁছে গেছেন।
তাপস বলেন, “আমি এয়ারপোর্টে চলে আসছি। জিও-টা (সরকারি অনুমতি) এখনো হয়নাই বলে এখানে ইয়ে করছে না।” শেখ হাসিনা উত্তরে বলেন, “জিওটা সঙ্গে নিলে না কেন?” তাপস জানায়, “অ্যাপ্লাই করে দিছি, কিন্তু হতে হতে তো ১১টা-১২টা বাজতে পারে।” এরপর হাসিনা বলেন, “আচ্ছা, দিয়ে দাও।”
সবচেয়ে বিতর্কিত অংশটি আসে যখন তাপস সরাসরি একজন ইমিগ্রেশন কর্মকর্তার সঙ্গে শেখ হাসিনাকে কথা বলানোর অনুরোধ করেন। জবাবে হাসিনা বলেন, “না না, আমি তার সাথে কথা বলব কেন। আমি অফিসের কর্মকর্তার মাধ্যমে বলিয়ে দিতে পারি।” তখন তিনি নির্দেশ দেন, “আমার সেক্রেটারিকে বললেই হবে, শাহ সালাউদ্দিন।”
অডিওটি ফাঁসের পর সামাজিক মাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে, যখন একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চলতি বছরের ৫ জানুয়ারি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করেছে, তখন এ অডিও আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
দুদকের মামলা অনুযায়ী, তাপস ও তার স্ত্রী আফরিন তাপসের সম্পদ তাদের ঘোষিত আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয় বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এই অডিও ফাঁস সত্যিই কি রাজনৈতিক পালাবদলের অন্তরালের বাস্তবতা তুলে ধরছে, নাকি এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত? আপনার কি মনে হয়, এমন ফোনালাপগুলো জাতির সামনে উন্মুক্ত হওয়া কি গণতন্ত্রের স্বার্থে জরুরি?
