প্রশাসনে বিতর্কের ঝড়: প্রাক্তন সরকারের ঘনিষ্ঠ সচিবদের অনেকে পলাতক বা কারাগারে

টানা ১৫ বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকা প্রাক্তন আওয়ামী সরকার পতনের পর দেশের প্রশাসনে শুরু হয়েছে বড় ধরনের রদবদল ও তদন্ত। গত বছরের আগস্টে প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের পর প্রকাশ্যে আসে, কেবল রাজনৈতিক নেতৃত্বই নয়—সরকারি আমলাদের একটি বড় অংশও ক্ষমতাসীন দলের প্রভাব বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, প্রায় ২৬ জন সচিব দীর্ঘ সময় ধরে সচিবালয়কে কার্যত রাজনৈতিক অফিসে রূপ দিয়েছিলেন। এর মধ্যে কেউ বর্তমানে পলাতক, কেউ কারাগারে, আবার কেউ বিদেশে অবস্থান করছেন। অভিযোগ, এদের সহায়তায় প্রাক্তন সরকার ক্ষমতার বলয় আরও মজবুত করেছিল।

বর্তমান সরকারের চারজন উপদেষ্টা নাকি এখনো এই প্রাক্তন শীর্ষ আমলাদের ‘প্রটেকশন’ দিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তালিকায় মুখ্যসচিব থেকে শুরু করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, কমিশনের চেয়ারম্যানসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কর্মকর্তাদের নাম রয়েছে।

তথ্যমতে, অন্তত ১১ জন প্রাক্তন শীর্ষ সচিব কারাগারে, ১৩ জন পলাতক, এবং কয়েকজন বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন। কেউ কেউ বাধ্যতামূলক অবসরে গেছেন, আবার কারও বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলা চলছে।

সাম্প্রতিক আপডেট: আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সূত্রে জানা গেছে, এই তালিকাভুক্ত কিছু প্রাক্তন সচিবের বিরুদ্ধে সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের নতুন প্রমাণ হাতে এসেছে। দুদক জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্ত শেষে কয়েকজনের বিরুদ্ধে শিগগিরই অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে।

দেশের প্রশাসনকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা—এখন সরকারের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, যারা দীর্ঘদিন প্রশাসনের ক্ষমতাধর আসনে থেকে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট করেছেন, তাদের বিচারের মুখোমুখি করা কি সম্ভব হবে?

Next News Previous News