হোয়াইট হাউজে ট্রাম্প-জেলেনস্কি বৈঠক: নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও পুতিনের সাথে সম্ভাব্য আলোচনার ইঙ্গিত
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউজে বৈঠক করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনে জেলেনস্কি একে অভিহিত করেছেন “এযাবৎকালের সেরা বৈঠক” হিসেবে। সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বৈঠকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা, রাশিয়ায় আটক ইউক্রেনীয় শিশু ও যুদ্ধবন্দিদের ফিরিয়ে আনার বিষয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু আলোচিত হয়।
জেলেনস্কির ভাষায়, “অনেক বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে তারা ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় অংশ নেবে।” তিনি আরও জানান, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রথমে পুতিন-জেলেনস্কির মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে, এরপর অনুষ্ঠিত হবে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক, যেখানে যোগ দেবেন ট্রাম্প নিজেও।
প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে দেখা করতে প্রস্তুত, তবে এটি যেন কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই হয়। তাঁর ভাষায়, “আমরা যদি শুরুতে প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির দাবি করি, তাহলে রাশিয়া আরো শত শত দাবি করতে শুরু করবে।”
বৈঠকের ফলাফল নিয়ে সন্তুষ্ট ইউরোপীয় নেতারাও। তারা জানিয়েছেন, ইউক্রেন ইস্যুতে এই আলোচনা ছিল ফলপ্রসূ। অন্যদিকে, ট্রাম্পও বলেছেন, জেলেনস্কি-পুতিন বৈঠকের আয়োজন চলছে এবং এর পর তিনি নিজে ত্রিপক্ষীয় বৈঠকে যোগ দেবেন।
এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় পাশে দাঁড়ানোর জন্য।
সর্বশেষ আপডেট
সাম্প্রতিক কূটনৈতিক সূত্র বলছে, এই বৈঠকের পর ইউক্রেনের সম্ভাব্য শান্তি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোও জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহগুলোতে এ সংলাপ আরও অগ্রসর হতে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে, এই বৈঠক কি সত্যিই ইউক্রেন সংকট সমাধানের পথে বড় কোনো অগ্রগতি আনবে, নাকি আবারও নতুন শর্ত আর আলোচনার জটিলতায় আটকে যাবে?
