টানা দুই যুগ ক্ষমতায়: একেপি’র রেকর্ড, এরদোয়ানবিহীন ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন
এর আগে তুরস্কে কোনো দলই এত দীর্ঘ সময় ধরে ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। রাজনৈতিক অস্থিরতা, বারবার সামরিক অভ্যুত্থান, জোট সরকারের পতন—এসবের মধ্যে একেপির এই টিকে থাকা বিরল এক দৃষ্টান্ত। দলটির সাফল্যের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানের নেতৃত্বকে। তাঁর ক্যারিশমা এবং জনগণের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক একেপিকে দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত করেছে।
২০০১ সালে দল গঠনের পর দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি বলেছিলেন: “তাঁর ভাষায়, ‘তুরস্কের রাজনীতিসহ কোনো কিছুই আর আগের মতো থাকবে না।’” ২৪ বছর পর বাস্তবেই তুরস্কের রাজনৈতিক চিত্রপট বদলে দিয়েছেন তিনি।
তুরস্কের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বহুবার সামরিক হস্তক্ষেপে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। ১৯৬০, ১৯৭১, ১৯৮০ ও ১৯৯৭ সালে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটে, আর সর্বশেষ ২০১৬ সালের অভ্যুত্থান প্রচেষ্টা জনগণের প্রতিরোধে ব্যর্থ হয়। কিন্তু এসবের মধ্যেও একেপি ২০০২ সাল থেকে টানা জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমাজের অবহেলিত ও রক্ষণশীল ভোটারদের পাশে দাঁড়ানো, ঘরে ঘরে গিয়ে সমর্থন আদায়, নারীদের রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় করা এবং অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি—এসব কৌশলেই একেপি প্রথম থেকেই জনমনে জায়গা করে নেয়। ২০০২ সালের নির্বাচনে এর ফল মিলেছিল স্পষ্টভাবে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিরোধী প্রার্থী কিলিচদারোগলুর চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও দ্বিতীয় দফায় সহজ জয় পান এরদোয়ান। তবে ২০২৪ সালের স্থানীয় নির্বাচনে আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুলের মেয়র পদে বিরোধীদের জয় একেপির জন্য বড় সতর্কবার্তা হয়ে এসেছে।
প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানিয়েছেন, ২০২৮ সালের পর তিনি আর নির্বাচন করবেন না। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর অনুপস্থিতিতে একেপি কতটা শক্তভাবে ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।
তাহলে প্রশ্ন উঠছে—এরদোয়ানের পরবর্তী নেতৃত্বে একেপি কি একইভাবে জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারবে, নাকি তুরস্ক আবার রাজনৈতিক অস্থিরতার পথে হাঁটবে?
