চীনের ত্রিপাক্ষিক প্রস্তাব নয়, স্বতন্ত্র উদ্যোগেই পাকিস্তানের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশ
বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক ঘনিষ্ঠতার পেছনে চীনের ত্রিপাক্ষিক উদ্যোগের কোনো ভূমিকা নেই—এমন স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন দেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা। রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, তাঁর ভাষায়, “একেবারে এক শব্দে বললে—না।”
তিনি আরও ব্যাখ্যা করেন, পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের এই উদ্যোগ বাংলাদেশের নিজস্ব কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অংশ। চীন যদিও ত্রিপাক্ষিক কাঠামোর বিষয়ে উৎসাহী এবং পাকিস্তানেরও আগ্রহ রয়েছে, তবে বাংলাদেশ জানিয়েছে— “আমরা চাইলে এটিকে চতুর্পাক্ষিক বা আরও বিস্তৃত করতে পারি। অন্য দেশকেও আলোচনায় যুক্ত করা যেতে পারে।”
এর আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ঢাকায় সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অংশ নেন। ওই বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে অমীমাংসিত বিষয় সমাধান ও সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয় বলে জানানো হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য যে, গত জুনে চীনের উদ্যোগে ইউনানের কুনমিং শহরে বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেই বৈঠকের পর থেকেই রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে ত্রিপাক্ষিক কাঠামো নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ তার অবস্থান অপরিবর্তিত রেখেছে। অর্থাৎ, সম্পর্ক উন্নয়নে সংলাপ অব্যাহত থাকবে, তবে তা কোনো নির্দিষ্ট ত্রিপাক্ষিক কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ভবিষ্যতে ভিন্ন কোনো বহুপাক্ষিক উদ্যোগ হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
প্রশ্ন হলো—বাংলাদেশ কি ভবিষ্যতে আঞ্চলিক কূটনীতিতে আরও দেশকে যুক্ত করে একটি নতুন ধরনের সহযোগিতা কাঠামো গড়ে তুলতে যাচ্ছে?
