ডাকসু নির্বাচনে আচরণবিধি লঙ্ঘনের প্রতিযোগিতা চলছে : আব্দুল কাদের

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন ঘিরে উত্তাপ বাড়ছে ক্যাম্পাসে। প্রচারণার শুরুতেই একের পর এক আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠছে। অভিযোগকারীদের ভাষায়, যেন এটি এখন "প্রতিযোগিতায়" পরিণত হয়েছে।

মধুর ক্যান্টিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভিপি পদপ্রার্থী জানান, নির্বাচন কমিশন আচরণবিধি ঘোষণা করলেও বাস্তবে কেউ তা মানছে না। তাঁর ভাষায়, “কমিশন সব দেখছে, তারপরও একদলকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। ফলে সবাই নিয়ম ভেঙে প্রচারণা চালাচ্ছে, অথচ প্রশাসন নীরব।”

তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ক্যাম্পাসে ৯০–এর পর যে ‘গণরুম-গেস্টরুম’ সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল, ২০২৫ সালের ডাকসুর পর হয়তো আবারও সেই পরিস্থিতি ফিরে আসতে পারে। শিক্ষার্থীদের মধ্যেও অস্বস্তি ও ভয় বাড়ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ক্যাম্পাসে সেনা মোতায়ন প্রসঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন—“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি কমিশন দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করে, সেনাবাহিনী মোতায়েনের দরকার নেই। এটা হবে মশা মারতে কামান ব্যবহার করার মতো।”

একই সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীও কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর মতে, মনোনয়নপত্র জমার দিন আচরণবিধি ভাঙলেও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফলে পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে গেছে ক্যাম্পাস, অথচ নির্ধারিত সময়ের পরও সেগুলো সরানো হয়নি। প্রশ্ন তুলেছেন তিনি—“এ কমিশন আসলেই কি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারবে?”

এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, নির্বাচনের আগের দিন বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। প্রথম স্তরে বিএনসিসি ও প্রক্টরিয়াল টিম, দ্বিতীয় স্তরে পুলিশ এবং তৃতীয় স্তরে প্রবেশপথগুলোতে সেনাবাহিনী থাকবে ‘স্ট্রাইকিং ফোর্স’ হিসেবে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রশাসন ও কমিশনের শিথিল ভূমিকা যদি অব্যাহত থাকে, তবে সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ তৈরি হবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Next News Previous News