পুতিন-জেলেনস্কি বৈঠকের প্রস্তুতি: ট্রাম্পের মধ্যস্থতা ও ফিনল্যান্ডের সতর্ক মন্তব্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এবং ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। শোনা যাচ্ছে, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এটি অনুষ্ঠিত হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার স্টাব মন্তব্য করেছেন, “জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকে বসার সাহস পুতিনের আছে কিনা সেটাই এখন দেখার বিষয়।”

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি মঙ্গলবার জানিয়েছে, হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের সঙ্গে ইউরোপীয় নেতাদের বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্টাব বলেন, আজকের বৈঠক আংশিকভাবে সফল হলেও ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়ে কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।

স্টাব আরও জানান, জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প, তবে রাশিয়ার প্রেসিডেন্টকে “বিশ্বাস করা যায় না।” তাঁর ভাষায়, “পুতিনের আসলেই এমন বৈঠকে আসার সাহস আছে কিনা, সেটাই দেখা যাবে।”

তিনি বলেন, লক্ষ্য হলো ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষা করা। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা চূড়ান্ত হতে পারে।

এর আগে ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং পুতিন ও জেলেনস্কির মধ্যে বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। বৈঠকটি কোথায় হবে, তা এখনও নির্ধারিত হয়নি। ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন, “ভাইস-প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং বিশেষ দূত উইটকফ মস্কো ও কিয়েভের সঙ্গে সমন্বয় করছেন।” তিনি আরও বলেন, “রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা নিয়ে সবাই খুবই আশাবাদী।”

প্রত্যাশিত দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর একটি ত্রিপাক্ষিক বৈঠকও অনুষ্ঠিত হতে পারে, যেখানে ট্রাম্প নিজেও দুই প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বসবেন।

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জও মন্তব্য করেছেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে পুতিন এবং জেলেনস্কির বৈঠক হতে পারে এবং পুতিন এই বৈঠকে সম্মত হয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হলো, এই বৈঠক সত্যিই ইউক্রেনের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কার্যকর হবে কি না। আন্তর্জাতিক নেতৃত্ব এবং সাধারণ জনগণ কি এর ফলাফলকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে দেখবে?

Next News Previous News