বিয়ের জন্য এসে পরিবারের ২৪ জনের জানাজা পড়লেন নূর

বিয়ের জন্য প্রবাস থেকে দেশে ফিরেছিলেন এক যুবক। বাড়িতে তখন সাজসাজ রব, আনন্দ-উৎসবের পরিবেশ। কিন্তু আকস্মিক বন্যায় মুহূর্তেই বদলে যায় সবকিছু। ভয়াবহ এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে তিনি হারিয়েছেন মা-সহ পরিবারের ২৪ জনকে। আনন্দের যে বাড়িতে বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল, সেখানে এখন শোকের মাতম।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাহাড়ি ঢল ও অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় ওই এলাকার একাধিক বাড়িঘর ও বাজার ভেসে যায়। ধসে পড়ে ৩৬ কক্ষের একটি বড় বাড়ি, যেখানে পরিবারের সদস্যরা একত্রে ছিলেন। এ ঘটনায় মা, ভাই-বোন, চাচা, দাদা ও শিশুসহ বহু আত্মীয় প্রাণ হারান।

পরিবারের একমাত্র বেঁচে যাওয়া সদস্যদের একজন জানান—তাঁর ভাষায়, “সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। বাড়ির কিছুই অবশিষ্ট নেই। শুধু ধ্বংসস্তূপ আর বড় বড় পাথর পড়ে আছে।” বন্যার পানির সঙ্গে ভেসে আসা পাথর মুহূর্তেই সবকিছু ধসিয়ে দেয়।

খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের এই ঘটনায় শুধু একটি পরিবারই নয়, পুরো এলাকায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বন্যায় ওই প্রদেশে ২০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আর দেশজুড়ে এ পর্যন্ত প্রাণহানি হয়েছে ৪৫০ জনেরও বেশি।

জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অস্বাভাবিক আবহাওয়া ও মেঘ বিস্ফোরণের কারণে এ ধরনের আকস্মিক বন্যা আরও তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে পাকিস্তানের পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণহানি আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।

এ ধরনের শোকাবহ পরিস্থিতি জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতা আমাদের সামনে স্পষ্ট করে দিচ্ছে। প্রশ্ন রয়ে গেল— ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে রক্ষা করতে এখনই কি আমাদের আরও বড় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি নয়?

Next News Previous News