রাকসু নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা, মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষদিনে ভাঙচুর ও তালাবদ্ধ অফিস
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণের শেষদিনে ব্যাপক বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটেছে। শাখা ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমে বাধা দেন, ভাঙচুর করেন চেয়ার-টেবিল এবং পরে কমিশন অফিসে তালা লাগিয়ে অবস্থান নেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির দাবিতে কয়েকদিন ধরেই আন্দোলন চালাচ্ছিলেন শাখা ছাত্রদলের নেতারা। রোববার তারা সরাসরি মনোনয়ন কার্যক্রম পণ্ড করে দেন।
এসময় সাবেক সমন্বয়ক সালাহউদ্দিন আম্মার মনোনয়নপত্র নিতে গেলে বাধার মুখে পড়েন। তিনিও তালাবদ্ধ গেইটের সামনে অবস্থান নেন। বিএনপন্থি কয়েকজন শিক্ষক এসে আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন।
শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক সর্দার জহুরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন—“আমরা দীর্ঘদিন ধরে দাবি করছি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হোক। তারা রাকসুর ফি দিয়েছে, অথচ ভোটার হতে পারছে না। এই বৈষম্য না দূর হলে আমরা কর্মসূচি শেষ করবো না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মাহবুবর রহমান জানান—“আমরা দুই পক্ষকেই সহনশীল থেকে কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানিয়েছি। আলোচনা করেই সমাধানের চেষ্টা চলছে।” তবে ভাঙচুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি ভিডিও দেখিনি। তবে যেকোনো আপত্তি দাবি আকারে জানানো যেতে পারে, নির্বাচন কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় সেদিকে আমরা নজর দিচ্ছি।”
পুনর্বিন্যস্ত তফসিল অনুযায়ী, রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর। রোববার ছিল মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষদিন।
সাম্প্রতিক আপডেট
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতি নিয়ে উত্তেজনা বাড়ছে। প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের ভোটাধিকার প্রশ্নে ক্যাম্পাসজুড়ে বিভক্তি স্পষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের অনেকে মনে করছেন, ভোটার তালিকায় নতুনদের অন্তর্ভুক্তি নির্বাচনকে আরও প্রতিযোগিতামূলক করবে।
প্রশ্ন রইলো—এই অচলাবস্থা কি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হবে, নাকি আসন্ন রাকসু নির্বাচনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে?
