পুলিশি পাহারায় মাকে শেষবারের মতো ছুঁয়ে দেখলেন মেয়ে
মায়ের শেষযাত্রায় পুলিশি পাহারায় প্যারোলে মুক্তি পেলেন শাহেনা আক্তার পাখি
সংক্ষেপ: কক্সবাজারের সাবেক নারী কাউন্সিলর শাহেনা আক্তার পাখি তার মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পান। পুলিশি পাহারায় গ্রামের বাড়িতে পৌঁছে মেয়ের হৃদয়বিদারক আহাজারি চোখে পড়ল।
ঘটনার বিবরণ
মায়ের মৃত্যুসংবাদ কারাগারে পৌঁছাতেই শাহেনা আক্তার পাখি শোকে ভেঙে পড়েন। জেলা প্রশাসনের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন মেলায় দুপুরে তিনি রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছান। বাড়ির উঠোনে ঢুকেই তিনি সাদা কাফনের কাপড়ে মোড়া মায়ের লাশের কাছে ছুটে গিয়ে কেঁদে উঠেন।
‘মা, আমি এসেছি… তুমি তো আমাকে ডাকছিলে।’
পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন পাখির বাবা, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গনি। তিনি জানান, মেয়ের গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে মা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া ও বিশ্লেষণ
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ পাখির পক্ষে সমর্থন জানিয়েছেন, কেউ আবার সমালোচনা করেছেন। কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক ও সাবেক জনপ্রতিনিধি ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘দলবাজি, সন্ত্রাস ও জুলুমকারীদের শাস্তি দিন, কিন্তু নিরপরাধ মানুষের প্রতি এতো অবিবেচক হবেন না।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শাহেনা আক্তার পাখি ৩১ জুলাই গ্রেপ্তার হয়ে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় ৬২ নম্বর মামলার আসামি হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়।
মায়ের শেষকৃত্য ও প্যারোলে মুক্তির মুহূর্ত
দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত মেয়ের প্যারোলে মুক্তি চলছিল। মায়ের দাফন শেষে আবারও তাকে ফিরতে হয়েছে কারাগারের চার দেওয়ালের ভেতরে। গ্রামের আকাশে ভাসছিল এক মেয়ের হৃদয়বিদারক কান্নার প্রতিধ্বনি।
দর্শকদের জন্য প্রশ্ন
আপনি কী মনে করেন, অপরাধ না করা কারাবন্দিদের প্রতি আমাদের সমাজ ও প্রশাসনের মনোভাব আরও মানবিক হওয়া উচিত কি না?
