ডাকসু নির্বাচন ঘিরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি, অভিযোগ তুললো বিরোধী দল
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে মনোনয়নপত্র কেনা ঠেকাতে পরিকল্পিতভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছে প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি। তাঁদের দাবি, মব তৈরি করে ছাত্রদলকে মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
এক শীর্ষ নেতার ভাষায়, “আজ দেশে আইন বহির্ভূতভাবে মব হচ্ছে। উচ্ছৃঙ্খল জনতা আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছে। কারণ সঠিকভাবে আইন প্রয়োগ হচ্ছে না।”
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, বর্তমান সরকারের সময়ে কেন এ ধরনের পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে? একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়েছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, রংপুরে সম্প্রতি দুজন সংখ্যালঘুর প্রাণহানি ঘটেছে মব হামলায়।
ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি
বিরোধীদলীয় নেতার অভিযোগ, পূর্ববর্তী সরকারের সময় সাড়ে ৩ লাখ কোটি টাকার ঋণ খেলাপি ঋণ নবায়ন হয়েছে। পাশাপাশি চলমান সরকারের সময় আরও দেড় লাখ কোটি টাকার খেলাপি ঋণ পুনর্নবায়ন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “ঋণ খেলাপিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে এবং বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে না আনলে বাংলাদেশ অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের সংকটে পড়বে।”
অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে দাবি
স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—সব ভোটার যাতে নিরাপদে কেন্দ্রে যেতে পারেন সেই নিশ্চয়তা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি ভোটকেন্দ্র বাতিল করা, এবং অতীতের মতো ‘ভোটারশূন্য নির্বাচন’ বা ‘মধ্যরাতের ভোট’ আর না হওয়া।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি ঢাকায় ডাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা ঘিরে ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। বিশেষ করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা না গেলে জাতীয় রাজনীতিতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
প্রশ্ন হচ্ছে—ডাকসু নির্বাচন কি সত্যিই একটি স্বচ্ছ ও অংশগ্রহণমূলক প্রক্রিয়ার দিকেই এগোচ্ছে, নাকি আবারও বাধা ও সংঘাতের ছায়ায় ঢেকে যাবে?
