মার্কিন ভিসাধারীদের রেকর্ড খতিয়ে দেখা শুরু, বহিষ্কারের আশঙ্কা

যুক্তরাষ্ট্রে ভিসাধারী প্রায় সাড়ে পাঁচ কোটি বিদেশীর রেকর্ড নতুন করে খতিয়ে দেখছে দেশটির পররাষ্ট্র দফতর। ভিসা বাতিল, অভিবাসন আইন লঙ্ঘন কিংবা নিরাপত্তা হুমকির মতো বিষয় চিহ্নিত করার জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, এসব কারণে অনেকের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

একইদিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন, বাণিজ্যিক ট্রাকচালকদের জন্য কর্মভিসা ইস্যু অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “বিদেশী ট্রাকচালকরা স্থানীয়দের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে ফেলছে।”

মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে পাঠানো এক লিখিত বিবৃতিতে পররাষ্ট্র দফতর জানায়—সব ভিসাধারী এখন থেকে নিরবচ্ছিন্ন যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় থাকবেন। কেউ অযোগ্য প্রমাণিত হলে তাঁর ভিসা বাতিল হবে এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করলে বহিষ্কৃত হবেন।

পর্যালোচনায় দেখা হচ্ছে—কেউ ভিসার মেয়াদ শেষে অবস্থান করছেন কি না, অপরাধে জড়িত কি না, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি কিনা, কিংবা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত আছেন বা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করছেন কি না।

বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অভিবাসন নীতি কঠোর হচ্ছে। শুরুতে কেবল অপরাধীদের লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলা হলেও এখন প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ গ্রেফতার হচ্ছেন। নিউইয়র্ক টাইমস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরেই প্রায় চার লাখ মানুষকে বহিষ্কার করা হতে পারে।

শ্রমঘন খাত যেমন রেস্তোরাঁ, নির্মাণ সাইট, খামার থেকে শুরু করে আদালত প্রাঙ্গণেও নজিরবিহীন অভিযান চালানো হচ্ছে। এমনকি বৈধ মর্যাদা পাওয়ার জন্য আদালতে হাজির হওয়া ব্যক্তিদেরও আটক করছে অভিবাসন কর্তৃপক্ষ।

এছাড়াও মানবিক প্যারোল ও অস্থায়ী সুরক্ষিত মর্যাদার মতো কর্মসূচি সীমিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব কর্মসূচি এতদিন প্রতিকূল পরিস্থিতির শিকার বিভিন্ন দেশের লাখ লাখ মানুষকে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস ও কাজের সুযোগ দিয়েছিল।

প্রশ্ন হচ্ছে—এই কঠোর পদক্ষেপে সত্যিই কি জননিরাপত্তা বাড়বে, নাকি বিপদে পড়বেন কর্মসংস্থানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে থাকা লাখো বিদেশি?

Next News Previous News