আমরা বিএনপি বা অন্য কোনো দলের সঙ্গে আসন সমঝোতা করবো না
আসন সমঝোতা নয়, সোজাসাপ্টা ঘোষণা হাসনাত আবদুল্লাহর
জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ স্পষ্ট করে জানিয়েছেন— বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে তারা আসন সমঝোতায় যাবে না। তাঁর ভাষায়, “আমাদের আসন দিয়ে কেনা যাবে না, আমরা বিক্রি হতে আসিনি।”
শনিবার বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে এনসিপির অস্থায়ী কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গণপরিষদ নির্বাচন’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, কেবল নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলেই হবে না, পুরো রাজনৈতিক খেলার নিয়ম পরিবর্তন করতে হবে। অতীতে প্রশাসন খেলোয়াড়ে পরিণত হয়েছে, এবার তা হবে না। তাঁর ভাষায়, “রেফারি রেফারি থাকবে, খেলোয়াড় খেলোয়াড় থাকবে, প্রশাসনকে নিরপেক্ষ থাকতে হবে।”
আসন ভাগাভাগি বা সমঝোতার মাধ্যমে নির্বাচনকে তিনি তুলনা করেন মধ্যরাতের ভোটের পুনরাবৃত্তির সঙ্গে। তাঁর দাবি, জনগণের সামনে প্রকৃত বিকল্প থাকতে হবে। তিনি আরও যোগ করেন, নভেম্বর, ডিসেম্বর কিংবা জানুয়ারিতেই হোক, নির্বাচন হতে হবে নতুন নিয়মে— যেখানে মানুষ তাদের প্রকৃত মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবে।
সভায় আরও বক্তব্য রাখেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, যুগ্ম সদস্যসচিব জহুরুল ইসলাম, আরিফ সোহেল ও ফরিদুল হক।
সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, দেশের আগামী জাতীয় নির্বাচনে আসন সমঝোতা না করার এই অবস্থান এনসিপিকে আলাদা জায়গায় দাঁড় করাতে পারে। এতে ভোটারদের জন্যও একটি স্পষ্ট বিকল্প তৈরি হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রশ্ন হচ্ছে—এই ঘোষণা কি সত্যিই জনগণের সামনে নতুন একটি রাজনৈতিক বিকল্প তৈরি করতে পারবে, নাকি শেষ মুহূর্তে পরিবর্তন আসবে?
