যুদ্ধের কারণ যাই হোক না কেন, মানবিক আইন মানতে হবে : নিকোলাস ফ্লুরি
আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির (আইসিআরসি) বাংলাদেশ ডেলিগেশনের হেড অব ডেলিগেশন নিকোলাস ফ্লুরি জোর দিয়ে বলেছেন, সশস্ত্র সংঘাতে মানবিক আইন মানা সবার জন্য বাধ্যতামূলক। তাঁর ভাষায়, “যুদ্ধের কারণ বা উদ্দেশ্য যাই হোক না কেন, আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের নিয়মসমূহ সব পক্ষের জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য।”
ঢাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটিতে আয়োজিত ১৬তম হেনরি ডুনান্ট মেমোরিয়াল মুট কোর্ট প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই আহ্বান জানান। ফ্লুরি বলেন, আমরা এমন এক সময়ে বসবাস করছি যখন যুদ্ধ ও সংঘাত ক্রমেই বাড়ছে। তাই আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের প্রতি প্রতিশ্রুতি আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিযোগিতাটি আয়োজন করেছে আইসিআরসি ও আইইউবি। এতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থীরা অংশ নিয়েছেন। এর মূল উদ্দেশ্য হলো তরুণদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবিক আইন (আইএইচএল) সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা, তাদের আইনচর্চার দক্ষতা বৃদ্ধি করা এবং মানবিক মূল্যবোধকে সামনে এনে আইনি অ্যাডভোকেসি করার মানসিকতা গড়ে তোলা।
আগামী দুই দিন শিক্ষার্থীরা একটি কাল্পনিক কেস স্টাডিকে কেন্দ্র করে তাদের আইনি যুক্তি উপস্থাপন করবেন। যা আইনশিক্ষা ও আইএইচএল প্রচারের ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আয়োজকদের প্রত্যাশা। প্রতিযোগিতার বিজয়ীরা আগামী বছর হংকং-এ অনুষ্ঠিতব্য এশিয়া-প্যাসিফিক পর্বে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করবেন।
অনুষ্ঠানে আইইউবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. তামিম শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, “আপনারা মন খুলে শিখুন, প্রতিযোগিতার ভেতর থেকেও শিক্ষা নিন। এই প্ল্যাটফর্ম আপনাদেরকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং আইনের দৃঢ়তা একসঙ্গে অর্জন করতে সাহায্য করবে।”
উল্লেখ্য, ২০০১ সালে সূচিত এই প্রতিযোগিতা বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশে জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর বাংলাদেশের ১৭টি শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয় এতে অংশগ্রহণ করেছে।
যুদ্ধ ও সংঘাত থামছে না—বরং প্রতিনিয়ত জটিল আকার নিচ্ছে। তাই প্রশ্ন থেকে যায়—আন্তর্জাতিক মানবিক আইন কি সত্যিই সব পক্ষকে মানবতার কাছে জবাবদিহি করাতে পারবে? নাকি যুদ্ধের অমানবিকতা মানবিকতার চেয়ে আরও প্রবল হয়ে উঠবে?
