ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে জনতার হাতে অবরুদ্ধ শিক্ষক

ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে রাজবাড়ীতে শিক্ষক অবরুদ্ধ

রাজবাড়ীর পাংশায় নবম শ্রেণির এক ছাত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ ঘিরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় জনতা এক শিক্ষককে স্কুলের কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে এবং পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

ঘটনাটি ঘটে উপজেলার মৌরাট ইউনিয়নের বাগদুলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিকেল ৪টার দিকে। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক দীর্ঘদিন ধরে কোচিং সেন্টারের আড়ালে ছাত্রীদের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলছিলেন। বুধবার সকালে এক ছাত্র এ ধরনের কার্যকলাপ প্রত্যক্ষ করলে দ্রুত খবর ছড়িয়ে পড়ে এবং দুপুরের মধ্যে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ উত্তাল হয়ে ওঠে।

বিক্ষুব্ধ জনতা বিদ্যালয়ের প্রধান গেট ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে, স্লোগান দিতে থাকে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের পদত্যাগ দাবি করে। এ সময় তার ব্যবহৃত মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।

বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জানান, অভিযোগগুলো আগে থেকেই শোনা যাচ্ছিল। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। বিদ্যালয়ের ক্ষতিগ্রস্ত গেট ও জানালার গ্লাস মেরামতের ব্যাপারে শিগগির সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাংশা মডেল থানার ওসি জানান, “তথ্য পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করা হয়। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: দেশের বিভিন্ন স্থানে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অনৈতিক আচরণের অভিযোগে বিক্ষোভের ঘটনা বাড়ছে। সম্প্রতি বরিশাল, কুমিল্লা ও বগুড়ায়ও এ ধরনের ঘটনায় শিক্ষক বরখাস্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, বিদ্যালয়গুলোতে মনিটরিং ও জবাবদিহি ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করা জরুরি।

আপনার মতামত কী—বিদ্যালয়ে শিক্ষকের অনৈতিক আচরণ প্রতিরোধে সবচেয়ে কার্যকর পদক্ষেপ কী হতে পারে?

Next News Previous News