জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে তৎপর বিএনপি, মিত্রদের সঙ্গে শুরু হচ্ছে ধারাবাহিক বৈঠক

নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে, প্রস্তুতি তুঙ্গে! আগামী ফেব্রুয়ারিতে রোজা শুরুর আগেই ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করতে নির্বাচন কমিশনকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়। এরই ধারাবাহিকতায় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আগামী ডিসেম্বরেই ঘোষণা হবে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল।

এই ঘোষণার পরই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তেজনা—বিশেষ করে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনের জোটগুলোর মধ্যে। আজ শুক্রবার থেকে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে শুরু হচ্ছে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। একত্রে ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও এলডিপিসহ বেশ কিছু মিত্র দলের সঙ্গে বসছেন তিনি। আগামীকাল শনিবার থাকছে গণতন্ত্র মঞ্চ ও গণতান্ত্রিক বাম ঐক্যের সঙ্গে বৈঠকের পালা।

গণতন্ত্র মঞ্চের শীর্ষ নেতা ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, “সরকার একটি নির্বাচনের রোডম্যাপ দিয়েছে, এতে দেশে একটি নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনের মিত্রদের বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর ভাষায়, ‘প্রথম বৈঠকটি হয়তো শুভেচ্ছা ও সৌজন্য বিনিময়ের পর্যায়েই থাকবে, তবে পরবর্তী বৈঠকে আসন বণ্টনসহ নির্বাচন কেন্দ্রিক আলোচনার দিকেই যাবো বলে আশা করছি।’”

বিএনপির ঘনিষ্ঠ সূত্রে জানা গেছে, শুধু বৈঠক নয়—চলতি সপ্তাহের মধ্যেই যুগপৎ জোটের মিত্রদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে আসন বণ্টন নিয়ে আলোচনাও শুরু করতে চায় বিএনপি। অনেক মিত্র দলের কাছে ইতোমধ্যে চাওয়া হয়েছে প্রত্যাশিত আসনের তালিকা।

১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, “সরকার নির্বাচনের একটি স্পষ্ট সময়সূচি দেওয়ার পর, যারা দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রাজপথে ছিল, তাঁদের সঙ্গে তারেক রহমানের সৌজন্য সাক্ষাৎ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। একইসঙ্গে, ঐক্য রক্ষায় তাঁর ভূমিকা থাকবে বলে আশা করছি।”

২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার অনেক বেশি কৌশলগত ও হিসাবি হতে চাইছে বিএনপি। সে সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলীয় জোটকে ৫৯টি আসন ছেড়েছিল দলটি। এবার সেই ভুল পুনরাবৃত্তি না করে, মিত্রদের জয়ের সম্ভাবনা ও আন্দোলনে সক্রিয়তা বিবেচনায় এনে আসন বণ্টনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিএনপির নীতিনির্ধারকরা।

এদিকে জামায়াতকে নিয়ে দ্বিধা থাকলেও, নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপির সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিচ্ছে না বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, “এনসিপির জন্য আলোচনার দরজা খোলা আছে।”

তফসিল ঘোষণার আগপর্যন্ত সমমনা যেকোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গঠন করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।

উল্লেখযোগ্য যে, বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ আন্দোলনের মূল অংশীদার ছিল ১২ দলীয় জোট, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট, গণতন্ত্র মঞ্চ, গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য, এলডিপি, গণঅধিকার পরিষদ, এবি পার্টি, এনডিএম, গণফোরাম-বিপিপি ও বাংলাদেশ লেবার পার্টি। তবে আন্দোলন চলাকালেই ১২ দলীয় জোট থেকে দুটি দল নির্বাচনে অংশ নিয়ে বাইরে চলে যায়।

যেসব দল ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে, তাদের প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থাকবে বিএনপির। তবে যারা আন্দোলনে ছিল না, তাদেরকে নির্বাচনি জোটে নেওয়া হবে না বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

সর্বশেষ আপডেট: নির্বাচন কমিশন সূত্র জানিয়েছে, ডিসেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তফসিল ঘোষণার সম্ভাবনা প্রবল। এর আগে সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করতে চায় কমিশন। তবে বড় দুই পক্ষের মধ্যে এখনও সরাসরি সংলাপের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

প্রশ্ন রয়ে গেল— বিএনপি নেতৃত্বাধীন যুগপৎ জোটের একাত্মতা কি নির্বাচনি মাঠে গড়াবে? নাকি সৌজন্য সাক্ষাৎেই থেমে যাবে এই উদ্যোগ?

Next News Previous News