বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ক নতুন মাত্রায়, দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে এগিয়ে দুই দেশ
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের আমন্ত্রণে আসন্ন সোমবার দেশটিতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা। সফরে প্রতিরক্ষা, জ্বালানি ও হালাল খাদ্যসহ বিভিন্ন খাতে পাঁচটি সমঝোতা স্মারক এবং তিনটি নোট বিনিময়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
কূটনৈতিক সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার কুয়ালালামপুরে প্রধান উপদেষ্টা ও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হবে। আলোচনায় শ্রমবাজারের জটিলতা, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি, বাণিজ্য, উচ্চশিক্ষা, রোহিঙ্গা সংকট, কৃষি, হালাল খাদ্য ও সমুদ্র অর্থনীতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। আসিয়ানসহ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দুই দেশের সহযোগিতাও এজেন্ডায় রয়েছে।
বৈঠক শেষে এমওইউ স্বাক্ষরের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ‘জয়েন্ট বিজনেস কাউন্সিল’ উদ্বোধনের পরিকল্পনা আছে। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার ভাষায়, “আমরা আশাবাদী যে অনেকগুলো বাধা দূর করতে পারব। সর্বোচ্চ পর্যায়ে সফর এবং দুই নেতার ভালো সম্পর্ক আমাদের সহায়তা করবে।”
সম্ভাব্য এমওইউগুলোর মধ্যে রয়েছে— প্রতিরক্ষা সহযোগিতা, জ্বালানি, গবেষণা ও কৌশলগত স্টাডিজ, চেম্বার অব কমার্সগুলোর মধ্যে অংশীদারিত্ব এবং প্রযুক্তি সহযোগিতা। নোট বিনিময়ের বিষয়গুলোর মধ্যে হালাল খাদ্য ব্যবস্থাপনা, কূটনৈতিক প্রশিক্ষণ এবং উচ্চশিক্ষা খাত অন্তর্ভুক্ত।
সফরের শুরুতে প্রধান উপদেষ্টাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। তিনি বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের আয়োজনে ব্যবসায়িক সেমিনারে যোগ দেবেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন এবং ইউনিভার্সিটি কেবাংসান মালয়েশিয়া থেকে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি গ্রহণ করবেন। এছাড়া, মালয়েশিয়ার মন্ত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সঙ্গে সাক্ষাতেরও সম্ভাবনা রয়েছে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, গত বছর অক্টোবরে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় সফর করেছিলেন, যা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রথম কোনো বিদেশি সরকার প্রধানের আগমন ছিল। এবার দুই দেশের সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ হিসেবে এই সফরকে দেখছে কূটনৈতিক মহল।
প্রশ্ন রইল— আসন্ন চুক্তি ও সহযোগিতা কার্যকর হলে দুই দেশের অর্থনীতি ও আঞ্চলিক প্রভাব কতটা বৃদ্ধি পাবে?
