বাংলাদেশি ভাষা’ উল্লেখে পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড়
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে এক সরকারি চিঠিকে ঘিরে, যেখানে লা’ ভাষাকে ‘বাংলাদেশের ভাষা’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি। বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, যিনি এই মন্তব্যকে জাতীয়তাবিরোধী ও অসাংবিধানিক বলে আখ্যা দিয়েছেন।
দিল্লি পুলিশের পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছিল, ‘বাংলাদেশে লেখা’ একটি নথির অনুবাদের কথা। এই লাইন থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক বিতর্ক। মুখ্যমন্ত্রীর ভাষায়, “এটি ভারতের সমস্ত বাংলাভাষী মানুষকে অপমান করার সমান। এমন ভাষা ব্যবহার করা যায় না যা আমাদের হেয় ও অবমাননা করে।”
তাঁর দল অভিযোগ করেছে, শাসক দল পরিকল্পিতভাবে বিদেশিদের প্রতি ঘৃণা উসকে দিচ্ছে এবং বাঙালিদের লক্ষ্যবস্তু করছে। তৃণমূল কংগ্রেসের মতে, এই ধরনের বিপজ্জনক বক্তব্যের নিন্দা ও প্রতিরোধ জরুরি।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা পাল্টা যুক্তি দিয়েছেন। দলের এক শীর্ষ নেতা বলেছেন, চিঠিতে বাংলাকে ‘বাংলাদেশি ভাষা’ বলা হয়নি, বরং অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের নির্দিষ্ট কিছু উপভাষা বোঝাতে এই শব্দ ব্যবহার হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “বাঙালি বলতে একটি জাতিকে বোঝায়, কোনো একক ভাষাকে নয়।”
তবে তৃণমূল এই ব্যাখ্যাকে ‘বিস্ময়কর’ বলে উড়িয়ে দিয়ে দাবি করেছে, এটি ভাষাগত বর্ণবাদেরই উদাহরণ।
উল্লেখ্য, প্রশ্নবিদ্ধ চিঠিটি বিদেশি আইন সংশ্লিষ্ট একটি মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে দিল্লির পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অতিথি ভবন বঙ্গ ভবনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে পাঠানো হয়েছিল।
প্রশ্ন রইল—রাজনীতির এই ভাষাগত বিতর্ক কি সীমান্ত পেরিয়ে সামাজিক বিভাজন বাড়িয়ে তুলবে, নাকি সংলাপের মাধ্যমে এর সমাধান সম্ভব?
