মেহেরপুর সীমান্তে বাংলাদেশি আটক, পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে বিজিবির কাছে হস্তান্তর
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাথুলী সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের পর এক বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করেছে বিএসএফ। পরবর্তীতে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তাঁকে বিজিবির কাছে ফেরত দেওয়া হয়েছে।
বিজিবির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)-এর কাথুলী বিওপি সীমান্ত পিলার ১৩২/১৫-আর নিকটে ভৈরব নদীর শূন্য রেখা সাঁতরে ভারতের ভেতরে প্রবেশ করেন কুতুবপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন। কিছু সময় পর ভারতের কুতুবপুর মাঠ এলাকায় ঘাস কাটার সময় ৫৬ ব্যাটালিয়নের বিএসএফ সদস্যরা তাঁকে আটক করে।
ঘটনার পরপরই বিজিবির কাথুলী কোম্পানি কমান্ডার যোগাযোগ করেন বিএসএফের রাউথবাড়ী কোম্পানি কমান্ডারের সঙ্গে। তাঁরা নাগরিকটির সুস্থতা নিশ্চিত করেন এবং ফেরতের বিষয়ে আলোচনায় বসেন। শুক্রবার ভোরে সীমান্ত পিলার ১৩৩/৩-এস এলাকায় আনুষ্ঠানিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে আটক ইকবাল হোসেনকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় বিজিবির কাছে হস্তান্তর করে বিএসএফ।
বিজিবি জানায়, ফেরতপ্রাপ্ত ইকবাল হোসেনকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গাংনী থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত এলাকায় মাদক ও অবৈধ পণ্য চোরাচালান প্রতিরোধে কঠোর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তাঁদের ভাষায়, “এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি।”
সর্বশেষ পরিস্থিতি
সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্ত এলাকায় অনুপ্রবেশ, গবাদিপশু ও মাদকের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি ও বিএসএফ উভয়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় সূত্র বলছে, সীমান্তবাসীদের সচেতনতা ও সহযোগিতা ছাড়া এ ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকানো কঠিন হয়ে উঠছে।
প্রশ্ন রইল—সীমান্তে বারবার এমন অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কেবল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উদ্যোগই কি যথেষ্ট, নাকি এর সঙ্গে স্থানীয় জনগণের আরও সক্রিয় অংশগ্রহণ দরকার?
