নতুন কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে শাহবাগ ছাড়লেন বুয়েটের শিক্ষার্থীরা
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা রোকনুজ্জামান হত্যার হুমকির বিচার এবং তাদের তিন দফা দাবির বাস্তবায়নের লক্ষ্যে শাহবাগ অবরোধের পাঁচ ঘণ্টা পর লং মার্চ টু ঢাকা কর্মসূচি ঘোষণা করে শাহবাগ ছেড়েছেন। এ সময় শাহবাগ এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
আগামী কর্মসূচি
প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সাকিবুল হক লিপু জানান, আগামীকাল সকাল ১০টা থেকে শাহবাগে নতুনভাবে জমায়েত শুরু হবে। এ আন্দোলনে সারা দেশের সব প্রকৌশল এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের তিন দফা দাবি
- ইঞ্জিনিয়ারিং ৯ম গ্রেড বা সহকারী প্রকৌশলী পদে প্রবেশের জন্য সকলকে নিয়োগ পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে; ন্যূনতম বিএসসি ডিগ্রিধারী হতে হবে। কোটার মাধ্যমে কোনো পদোন্নতি হবে না।
- টেকনিক্যাল ১০ম গ্রেড বা উপ-সহকারী প্রকৌশলী পদের নিয়োগ পরীক্ষা ডিপ্লোমা ও বিএসসি ডিগ্রিধারী উভয়ের জন্য উন্মুক্ত হবে।
- বিএসসি ডিগ্রি ব্যতীত কেউ ইঞ্জিনিয়ার পদবি ব্যবহার করতে পারবে না; আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। নন-অ্যাক্রিডিটেড ডিগ্রিগুলিকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় অ্যাক্রিডেশনের আওতায় আনা হবে।
শাহবাগ অবরোধ ও আন্দোলনের পটভূমি
মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বুয়েট শিক্ষার্থীরা শাহবাগ মোড় অবরোধ করেন। তাদের সঙ্গে অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও যোগ দেন। শিক্ষার্থীরা “চাকরি চাকরি পরে কর, ইঞ্জিনিয়ার বানান কর”, “ব্লকেড ব্লকেড, শাহবাগ ব্লকেড”, “কোটা না মেধা, মেধা মেধা” ইত্যাদি স্লোগান দেন। আন্দোলনের পেছনের কারণ হিসেবে তারা উল্লেখ করেছেন, নেসকো কার্যালয়ে রোকনুজ্জামানকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।
প্রতিক্রিয়া
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালিদ মনসুর জানান, শিক্ষার্থীদের এ কর্মসূচির কারণে ওই এলাকায় যান চলাচল বন্ধ ছিল। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পুলিশ মাঠে আছে। শিক্ষার্থীরা বলেন, “দোষীদের শাস্তির আওতায় আনা পর্যন্ত এ আন্দোলন চলবে।”
চূড়ান্ত প্রতিফলন
এই আন্দোলন দেশের প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য ন্যায্য কর্মসংস্থান ও শিক্ষাগত মান নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। প্রশ্ন থেকে যায়—সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের এই দাবিগুলো কত দ্রুত বাস্তবায়ন করবে এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে কি না?
