সারাদেশে লংমার্চের হুঁশিয়ারিতে রংপুরে জাতীয় পার্টির অবস্থান

রাজধানীতে সংঘর্ষের ঘটনায় দেশের বিভিন্ন স্থানে জাতীয় পার্টির অফিসগুলোর অভিমুখে লংমার্চের ঘোষণা আসার পর রংপুরে পার্টি অফিসের সামনে নেতাকর্মীরা অবস্থান নিয়েছেন।

শনিবার সকাল থেকে নগরীর পায়রা চত্বরে পার্টি অফিসের সামনে কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগর নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অফিসের আশেপাশে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা ও গণমাধ্যমকর্মীরাও ছিলেন।

অবস্থানকালে নেতাদের বক্তব্য

অবস্থানকালে উপস্থিত নেতারা জানিয়েছেন, “আওয়ামী লীগের পক্ষে কিংবা বিপক্ষে জাতীয় পার্টি কোনো অবস্থান রাখে না। আমাদের অফিসে এসে ঝামেলা করার চেষ্টা হলে আমরা তা প্রতিরোধ করব। রাজধানীতে ভিপি নুরসহ অন্যদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার সঙ্গে জাতীয় পার্টির কোনো সম্পর্ক নেই।”

রংপুর জেলা জাতীয় ছাত্র সমাজের আহ্বায়ক বলেন, “গণঅধিকার পরিষদে আওয়ামী লীগের বহু নেতাকে পুনর্বাসন করা হয়েছে। কিন্তু দায়সারা হিসেবে জাতীয় পার্টির ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা হচ্ছে। গতকালের ঘটনাতে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাদেরকে সরানোর চেষ্টা করেছে। গণঅধিকার পরিষদ মব করতে গিয়ে তারা পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে মানে না, আসলে মানেটা কাকে?”

রংপুর মহানগর জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আজকের অবস্থানের মূল কারণ হলো বিভিন্ন সংগঠন সারাদেশের জাতীয় পার্টি অফিসগুলো অভিমুখে লংমার্চ ঘোষণা করেছে। আমরা যদি অফিসে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি প্রতিরোধ না করি, সেটি আমাদের জন্য কলঙ্কজনক হবে। আমাদের বিক্ষোভ নেই, শুধু প্রতিরোধ।”

কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও রংপুর জেলা যুবসংহতি সভাপতি বলেন, “ভিপি নুর আমাদের ওপর আক্রমণাত্মক ব্যবহার করেছে। আমরা আক্রমণ করি নি, আমরা প্রতিরোধ করেছি। আমাদের পাঁচ থেকে সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। প্রশাসন বিষয়টি দেখেছে। যে প্রতিরোধ হয়েছে, সেটি প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে।”

প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর সাধারণ সম্পাদক বলেন, “আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা অতীতে আমাদের পার্টিকে বিভক্ত করেছে। আমরা স্বাধীন রাজনৈতিক দল, আমাদের লক্ষ্য এবং আদর্শ রক্ষণ করা। কেউ যদি আমাদের কণ্ঠ রোধ করতে চায়, আমরা তা প্রতিরোধ করব। এজন্যই আমাদের এই অবস্থান।”

সংক্ষিপ্ত বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক উত্তেজনার এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় পার্টি তার অফিসে শান্তিপূর্ণ অবস্থান অব্যাহত রেখেছে। দেশের রাজনৈতিক দলগুলো যখন মাঠে আন্দোলন ঘোষণা করছে, তখন কীভাবে রাজনৈতিক সংলাপ ও সংহতি বজায় রাখা যায়—এটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

Next News Previous News