পুলিশ ব্যবস্থা ও সরকারের অভিজ্ঞতা: এম সাখাওয়াতের মূল্যায়ন
পুলিশ গঠন পদ্ধতি না বদলালে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হবে না: এম সাখাওয়াত হোসেন
পুলিশ ব্যবস্থার কাঠামো বদল না হলে রাজনীতির অবৈধ প্রভাব অব্যাহত থাকবে বলে মনে করেন বস্ত্র ও পাট ও নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। রাজধানীর গুলশানে এক গবেষণা সংস্থা আয়োজিত ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৩৬৫ দিন’ শীর্ষক সংলাপে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “পুলিশ চাকরি করতে আগ্রহী ছিল না। দেশের পরিস্থিতি এমন যে লিডারবিহীন তরুণ থেকে শুরু করে স্কুলের ছোট ছেলেও নিহত হয়েছে। প্রায় এক মাস রাস্তায় ছিল তারা, কোনো সাহায্য পায়নি। ৪০-৪৫টি থানা আগুনে পুড়ে গেছে, পুলিশ সদস্যও মারা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে আমাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “আমি যখন দায়িত্ব নিয়েছিলাম, পুলিশ বলছিল তারা চাকরি করতে চায় না। আমি আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। পুলিশ এখনো সঠিকভাবে গঠিত হয়নি। যদি এই গঠন পদ্ধতি না বদলায়, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ হবে না। পুলিশ ব্যবস্থায় সংস্কারের জন্য ‘টু-স্টেজ রিক্রুটমেন্ট’ প্রয়োজন। যেমন ছাত্রদল-ছাত্রলীগ ঢুকেছে, ভবিষ্যতেও রাজনীতিকরণ চলবে।”
শ্রম মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতাও শেয়ার করেন সাখাওয়াত। তিনি জানান, “৩৮ হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে গিয়েছিল বেক্সিমকো ইস্যুর কারণে, যাদের সমস্যা সমাধানে আমি কিছুই করতে পারিনি, শুধু একটি কমিটি গঠন করতে পেরেছি।” তিনি দাবি করেন, “একটি কোম্পানি ৪৮ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ও ফাইন্যান্স কোম্পানি থেকে নিয়েছে, কিন্তু কোথায় গেছে তা কেউ জানে না। জনতা ব্যাংক একাই ২৪ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। এর গভর্নরসহ তিনজন পলাতক।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা রূপরেখা দিয়ে যাব, তবে বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা নেই। হয়তো আমরা অনেক জায়গায় ব্যর্থ হয়েছি, কিন্তু কিছু জায়গায় কাজের সূত্রপাত করেছি।”
গত কয়েকদিনে পুলিশ ও প্রশাসন নিয়ে নানা প্রতিবেদন ও সমালোচনা উঠে এসেছে। সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, পুলিশের আধুনিকায়ন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তবে কাঠামোগত পরিবর্তন ও রাজনৈতিক প্রভাব মুক্তির বিষয়টি এখনও চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
আপনার মত কি? পুলিশ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনতে সরকার ও সংশ্লিষ্টরা কতটা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ? রাজনীতিকরণ মুক্ত একটি পুলিশ বাহিনী কি বাংলাদেশে সম্ভব? চিন্তার বিষয়গুলো শেয়ার করুন।
