গাজায় ইসরায়েলি বিমান হামলায় আরও প্রাণহানি, পরিস্থিতি ভয়াবহ
গাজার আকাশে আবারও ধ্বংসের ছায়া—ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর গোলাবর্ষণে অন্তত আরও ৬৯ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩৬২ জন। গত শুক্রবারের পর থেকে এই সহিংসতায় মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬০ হাজার ৪৯৯ জনে, আর আহত হয়েছেন ১ লাখ ৫৩ হাজার ৫৭৫ জন।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে পৌঁছানো মৃত ও আহতদেরই কেবল হিসাবের মধ্যে ধরা হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এবং সড়কে পড়ে থাকা অনেক লাশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি, কারণ পর্যাপ্ত উদ্ধার সরঞ্জাম নেই এবং অব্যাহত বোমাবর্ষণ চলছে। ফলে প্রকৃত হতাহতের সংখ্যা আরও বেশি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সামরিক অভিযানের পাশাপাশি গাজায় খাদ্য ও ত্রাণের প্রবেশও কঠোরভাবে সীমিত করা হয়েছে। এতে ভয়াবহ খাদ্য সংকট ও অপুষ্টি দেখা দিয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অভিযানের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অনাহার ও অপুষ্টিতে প্রাণ গেছে ২২২ জনের, যার মধ্যে ১০১ জনই শিশু। শুধু সোমবারই খাদ্যাভাব ও অপুষ্টিজনিত কারণে এক শিশুসহ ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এমনকি খাদ্য ও ত্রাণ নিতে যাওয়া মানুষের দিকেও গুলি চালানো হচ্ছে। মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, ত্রাণ সংগ্রহের চেষ্টায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন মোট ১ হাজার ৭৭২ জন। এই হতাহতদেরও মোট নিহতের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে, জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় একাধিকবার গাজায় সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগে মামলাও চলছে। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন—তাঁর ভাষায়, ‘হামাসকে পুরোপুরি দুর্বল ও অকার্যকর করা এবং জিম্মিদের মুক্ত না করা পর্যন্ত এই অভিযান থামবে না।’
চিন্তার বিষয়—এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে গাজার মানবিক সংকট কোন দিকে গড়াবে? বিশ্ব কি সময়মতো পদক্ষেপ নিতে পারবে?
