রাশিয়ার জ্বালানি কিনলে আসছে আরও শাস্তি — সতর্ক করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট

রাশিয়ার জ্বালানি পণ্য কেনা অব্যাহত রাখলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর জন্য আরও কঠোর অর্থনৈতিক শাস্তি আসছে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ভারতের ওপর ইতিমধ্যেই রাশিয়ার তেল কেনার অভিযোগে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। তবে প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “সবে তো শুরু, আপনারা আরও অনেক কিছু দেখতে যাচ্ছেন। আরও অনেক নিষেধাজ্ঞা আসতে যাচ্ছে।”

ওভাল অফিসে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জানান, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অর্থনীতিকে চাপে ফেলার অংশ হিসেবেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর আগে রুশ প্রেসিডেন্টকে শান্তিচুক্তির জন্য সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন তিনি। সেই সময়সীমা না মানায় অর্থনৈতিক শাস্তি কার্যকর করা হয়েছে।

পূর্ববর্তী প্রশাসনও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল, তবে তা যুদ্ধ থামাতে পারেনি। এবার ‘সেকেন্ডারি ট্যারিফ’ বা গৌণ শুল্কের মাধ্যমে তৃতীয় পক্ষের দেশগুলোকে এমন অবস্থানে ফেলছেন তিনি, যেখানে রাশিয়া বা যুক্তরাষ্ট্র—যেকোনো এক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে বাধ্য হতে হবে।

চীনও শুল্কের মুখে

রাশিয়ার জ্বালানি পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতা চীন। দেশটির সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চললেও শুল্কারোপের হুমকি প্রত্যাহার করেননি প্রেসিডেন্ট। তাঁর ভাষায়, “আমি যাদের ওপর শুল্কারোপ করতে যাচ্ছি, চীনও তাদের মধ্যে থাকতে পারে। এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে কিছু বলতে পারছি না।”

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে চীনা দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা সবসময় অবৈধ ও একতরফা নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করে আসছে। দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ সিএনএনকে বলেন, “শুল্কযুদ্ধে কোনো বিজয়ী নেই। জবরদস্তি ও চাপ প্রয়োগ কোনো সুফল আনবে না।” বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান শুল্ক ঠেকাতে বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা চলছে।

ভারতের ওপর দ্বিগুণ শুল্ক

রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের ওপর বুধবার থেকে অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আগের ২৫ শতাংশ শুল্কের সঙ্গে মিলিয়ে এখন ভারতীয় পণ্যে মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে। নতুন শুল্কহার ২১ দিন পর কার্যকর হবে।

ভারতকে আগেভাগেই সতর্ক করা হয়েছিল, রাশিয়ার তেল কিনে তারা ইউক্রেনে হামলায় মস্কোকে সহায়তা করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছিল। ভারতের পর এবার চীনও একই ধরনের অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।


প্রশ্ন: রাশিয়ার জ্বালানি কেনা বন্ধে এই ধরনের অর্থনৈতিক চাপ কি কার্যকর হবে, নাকি এটি বৈশ্বিক বাণিজ্যকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলবে?

Next News Previous News