নেতানিয়াহুর ‘বৃহত্তর ইসরাইল’ পরিকল্পনার বিরুদ্ধে মুসলিম বিশ্বের একযোগে নিন্দা

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বৃহত্তর ইসরাইল রাষ্ট্র গড়ার পরিকল্পনার বিরুদ্ধে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশসহ ৩১টি মুসলিম দেশ। তারা বলেছে, এই পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক হুমকি।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক যৌথ বিবৃতিতে জর্ডান, মিসর, সৌদি আরব, কাতার, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, ইয়েমেনসহ ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি), আরব লিগ ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিবরা নেতানিয়াহুর বক্তব্যের তীব্র নিন্দা জানান।

বিবৃতিতে বলা হয়— নেতানিয়াহুর এই দৃষ্টিভঙ্গি আন্তর্জাতিক আইন ও সম্পর্কের মৌলিক নীতির প্রতি অবজ্ঞা এবং স্পষ্ট লঙ্ঘন।

এর আগে এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, তিনি বৃহত্তর ইসরাইল গড়ার মিশনের অংশ। তাঁর ভাষায়, “এটি ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিকভাবে একটি অপরিহার্য দায়িত্ব।” এই পরিকল্পনায় পশ্চিম তীর, গাজা, গোলান হাইটস ছাড়াও জর্ডান ও মিসরের কিছু অংশ অন্তর্ভুক্ত করার ধারণা রয়েছে, যা ফিলিস্তিনিদের পাশাপাশি গোটা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি।

যৌথ বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ইসরাইলের কোনো সার্বভৌমত্ব নেই। সেখানে নতুন করে বসতি স্থাপন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাব ২৩৩৪-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন।

পাশাপাশি ইসরাইলি উগ্রপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচের পশ্চিম তীরে নতুন বসতি নির্মাণ অনুমোদন এবং ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতারও কঠোর সমালোচনা করা হয়। মুসলিম দেশগুলো জানায়, তারা শান্তিরক্ষায় জাতিসংঘ সনদের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হলেও প্রয়োজনে সব ধরনের পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ ইস্যুতে বিশ্বজুড়ে কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিশ্ব শান্তির জন্যও বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রশ্ন হচ্ছে— বৃহত্তর ইসরাইলের এই পরিকল্পনা কি শুধুই রাজনৈতিক কৌশল, নাকি বাস্তবায়নের জন্য এগোচ্ছে তেলআবিব? আপনার মত কী?

Next News Previous News