“ভবিষ্যৎ নির্বাচন যদি ব্যর্থ হয়, দায় নিতে হবে ড. ইউনূসকে”—বিএনপি নেতার হুঁশিয়ার

নিউজ ডেস্ক: আগামী জাতীয় নির্বাচন যদি ১৯৯১ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলের চেয়েও ভালো না হয়, তাহলে সেই ব্যর্থতার দায় নিতে হবে ড. ইউনূসকে—এমন হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা।

রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি বলেন, “নির্বাচন নিয়ে আমি সন্তুষ্ট, তবে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হলে আরও খুশি হব।”

‘জুলাই ঘোষণাপত্র ও জাতীয় নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা: অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনই আমাদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক ওই অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

তাঁর ভাষায়, “যারা ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনকে কলঙ্কিত করেছেন, সেইসব পুলিশ কর্মকর্তারা যেন লটারিতে না থাকেন এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনে কোনো দায়িত্ব না পান।” তিনি স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার লটারির মাধ্যমে এসপি-ওসি বদলির প্রস্তাব নিয়েও সমালোচনা করেন।

ফারুক বলেন, “যাদের কারণে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে, সেই কর্মকর্তারা এখনো দায়িত্বে রয়েছেন কি না, সেই প্রশ্ন এখন সময়ের দাবি।”

ব্যক্তিগত একটি হৃদয়বিদারক স্মৃতি তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৮ সালে কারাবন্দি অবস্থায় মায়ের মৃত্যু হলেও প্যারোল না পাওয়ায় শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখতে পারেননি। প্রয়াত রাজনীতিক শাহজাহান সিরাজের উক্তি স্মরণ করে তিনি বলেন, “রাজনীতিতে টিকে থাকতে হলে অনেক কিছু হারাতে হয় এবং সবকিছু ভুলে যেতে হয়।”

তিনি শেখ মুজিবকে নিয়ে পূর্ববর্তী একটি মন্তব্যও পুনরুল্লেখ করেন—যেখানে তিনি বলেছিলেন, “শেখ মুজিব যুদ্ধ দেখেননি, বুদ্ধিজীবী হত্যার কান্নাও দেখেননি। তাই তাঁর উচিত ছিল গুণীজনদের দিয়ে দেশ পরিচালনা করা।”

রাজনীতিকে জনগণের সম্পদ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশে সৎ রাজনীতির প্রচলন করেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান এবং খালেদা জিয়া হচ্ছেন আপসহীন নেতৃত্ব।”

সরকারপ্রধানকে উদ্দেশ করে তাঁর বক্তব্য, “যদি আপনি গণতন্ত্র ধ্বংস না করতেন, সংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো ভেঙে না ফেলতেন, বেগম জিয়াকে মিথ্যা মামলায় সাজা না দিতেন—তাহলে হয়তো আজ পালিয়ে যেতে হতো না।”

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স কাউন্সিলের সভাপতি এবং প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের আরেক উপদেষ্টা।

সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনের সূত্র জানায়, তারা অক্টোবরের মধ্যেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে চায়। তবে নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে।

প্রশ্ন রইল— জাতীয় ঐকমত্য ছাড়া কি আদৌ নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব?

Next News Previous News