নুরের ওপরে হামলা ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের অংশ
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূরের ওপর হামলা ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের একটি বড় ষড়যন্ত্রের অংশ বলে দাবি করেছে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্ব। দলের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন— “অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে-বাইরে এখনো আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা সক্রিয়। এই হামলার মধ্য দিয়ে সেটি প্রমাণিত হয়েছে।”
শনিবার ঢাকায় দক্ষিণ মহানগর জামায়াতের উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। তাঁর ভাষায়, “ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে নুরুল হক নূরকে টার্গেট করা হয়েছে। সিসি টিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমের ভিডিও দেখে দ্রুত হামলাকারীদের আইনের আওতায় আনা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলটি দাবি করে আসছে যে প্রচলিত নির্বাচনী ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে জনগণের সরকার গঠন সম্ভব নয়। এজন্য জনগণ আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিভিন্ন জরিপে দেশের প্রায় ৭১ শতাংশ মানুষ এই পদ্ধতিকে সমর্থন করছে। তিনি সতর্ক করেন, “অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেলে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ থাকবে না।”
সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন দলের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম। তিনি বলেন— “জুলাই যোদ্ধাদের ওপর হামলা হলে জনগণ বসে থাকবে না। গণঅধিকার পরিষদের প্রধানের ওপর হামলা প্রমাণ করেছে, ফ্যাসিস্ট দোসররা এখনো সক্রিয়।” তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে ড. হেলাল উদ্দিন প্রশ্ন তোলেন— “যদি নুর কোনো অপরাধ করে থাকে, তাহলে আইনের মাধ্যমে গ্রেপ্তার করা যেত। কিন্তু কেন এমন নিষ্ঠুর হামলা চালানো হলো? আর ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকা জাতীয় পার্টির নেতাকে কেন নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হলো—স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে এর জবাব দিতে হবে।”
জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, জাতিসংঘ কর্তৃক ইতোমধ্যেই আওয়ামী লীগ গণহত্যাকারী একটি দল হিসেবে চিহ্নিত। তাই ফ্যাসিবাদী শক্তির অংশীদার ১৪ দলীয় জোটকে নিষিদ্ধ করে আইনের আওতায় আনারও আহ্বান জানানো হয়।
সমাবেশে কেন্দ্রীয় ও মহানগর পর্যায়ের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক কর্মী-সমর্থক অংশ নেন।
প্রশ্ন রইল: হামলার এ অভিযোগ ও ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব নিয়ে কি অন্তর্বর্তী সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে? নাকি রাজনৈতিক দোষারোপেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
