গাজা ইস্যুতে ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রস্তাব—জোটের আপত্তিতে পদত্যাগ নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় চলমান মানবিক বিপর্যয়ের জন্য ইসরায়েলকে দায়ী করে তেল আবিবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে সরকারের জোটসঙ্গীরা সেই প্রস্তাবে আপত্তি জানানোয় তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।

এক সরকারি বিবৃতিতে তিনি জানান— তাঁর ভাষায়, “গাজায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের জন্য আমি ইসরায়েলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তাব করেছিলাম। কিন্তু জোটসঙ্গীদের আপত্তির কারণে তা গৃহীত হয়নি। এ অবস্থায় আমি উপলব্ধি করেছি যে, এই সরকারে থেকে আমি নিজের এবং দলের নীতি বাস্তবায়ন করতে পারব না। তাই আমি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

সাবেক কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূত এই নেতার বয়স ৬১ বছর। তিনি নেদারল্যান্ডসের ক্ষমতাসীন জোট সরকারের শরিক সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট পার্টি (এনএসসি)-এর অন্যতম শীর্ষ নেতা। এনএসসি-এর প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তাঁর পদত্যাগের পর তারাও জোট থেকে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “এক কথায় বলতে গেলে— এই সরকারের সঙ্গে আমাদের যাবতীয় সম্পর্ক শেষ।”

উল্লেখ্য, এর আগে অভিবাসন নীতি নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে গত জুনে ক্ষমতাসীন চার দলীয় জোট থেকে সরে যায় আরেকটি বড় দল, যার ফলে সরকার কার্যত ভেঙে পড়ে। পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী অক্টোবরেই নেদারল্যান্ডসে নতুন পার্লামেন্ট নির্বাচন হবে। ততদিনের জন্য বর্তমান জোট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্ব পালন করবে।

সর্বশেষ আপডেট

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, পদত্যাগের পর দেশটিতে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা আরও গভীর হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কয়েকজন কর্মকর্তা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, নেদারল্যান্ডসের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হলে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে তাদের অবস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে।

প্রশ্ন হলো— মানবিক সংকটের সময় আন্তর্জাতিক রাজনীতির এই টানাপোড়েন কি সমাধানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে? এ বিষয়ে আপনার কী মত?

Next News Previous News