সচিবালয়ে গোপন সমীকরণ: এখনো বহাল আস্থাভাজন কর্মকর্তারা
জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর প্রশাসনের শীর্ষ পদে পরিবর্তন হলেও, সচিবালয়সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে এখনো বহাল রয়েছেন পূর্ববর্তী সরকারের আস্থাভাজন ও সুবিধাভোগী কর্মকর্তারা। প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্রে এ অবস্থায় তৈরি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি ও অনিশ্চয়তা।
বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগে পুরনো প্রভাবশালী কর্মকর্তারা এখনো সক্রিয় রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে কেউ কেউ নিয়মিত গোপন বৈঠকও করছেন—যেন সুযোগের অপেক্ষায় আছেন। অনেকের আশঙ্কা, এ পরিস্থিতি সচিবালয়ে ‘আমলা বিদ্রোহ’ এবং আসন্ন নির্বাচন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে।
তথ্য বলছে, আগের সরকারের ঘনিষ্ঠ অন্তত ১৫ জন সচিব এখনো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন এমন কর্মকর্তাও, যারা পূর্বে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিকভাবে আলোচিত নানা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমান কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান পূর্বে মুজিব জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব ছিলেন এবং প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত।
এছাড়া, ওএসডি হওয়া আগের সরকারের সমর্থক ১১ জন সচিবও এখনো চাকরিতে বহাল আছেন। অভিজ্ঞ প্রশাসনিক সূত্রের মতে, এই কর্মকর্তাদের দ্রুত অবসরে পাঠানো জরুরি, যাতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক অস্থিরতার পর প্রশাসন সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে। সুশাসন ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে দায়িত্বশীল মহল বলছে, সরকারি পদে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখা এখন সময়ের দাবি।
প্রশ্ন রইল—আসন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এই পুরনো প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের অবস্থান কি প্রশাসনের জন্য স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে, নাকি নতুন সংকটের জন্ম দেবে?
