ফোন ধরলেন না মোদি? আলোচনায় মার্কিন-ভারত সম্পর্ক
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চারবার ফোন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, কিন্তু ভারতের প্রধানমন্ত্রী সেই ফোন ধরেননি—এমন দাবিই করেছে জার্মানির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ফ্র্যাঙ্কফুর্টার অ্যালগেমাইনা জাইটুং। যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের একটি সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত এই খবর ঘিরে তুমুল আলোচনায় জমে উঠেছে আন্তর্জাতিক অঙ্গন।
শুধু জার্মানি নয়, জাপানের সংবাদমাধ্যম নিক্কেই এশিয়াও জানিয়েছে একই তথ্য। তাদের দাবি, ট্রাম্পের ফোন ধরেননি মোদি, যার জেরে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন বেড়েছে।
তবে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। জার্মান ডয়চে ভেলের খোঁজ নিয়েও কোনো উত্তর মেলেনি। মার্কিন প্রশাসনও এ বিষয়ে নীরব। ফলে বিষয়টি ঘিরে ধোঁয়াশা আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অফ ইন্ডিয়া জানিয়েছে, ট্রাম্প অনেক সময় বিশ্ব নেতাদের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করেন। ফলে সেটি সব সময় হোয়াইট হাউসের নজরে থাকে না। এমনকি ট্রাম্প সৌদি যুবরাজ, ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কাছেও নিজের নম্বর দিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তাই ধারণা করা হচ্ছে, মোদির কাছে ট্রাম্প ফোন করেছিলেন ব্যক্তিগত মোবাইল থেকেই।
ভারতের রাজনৈতিক প্রোটোকল অত্যন্ত কঠোর। সেক্ষেত্রে ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে আসা ফোন উপেক্ষা করার ঘটনাকে একেবারেই উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না। তবে সরকার বা ক্ষমতাসীন দলের কেউ এ নিয়ে প্রকাশ্যে কিছু বলেননি।
এনডিটিভি জানিয়েছে, যদি এই খবর সত্যি হয়, তাহলে নিঃসন্দেহে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব পড়বে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারত-পাকিস্তান সংঘাত নিয়ে ট্রাম্পের একের পর এক মন্তব্য মোদিকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, তাঁর মধ্যস্থতায় সংঘাত বন্ধ হয়েছে। কিন্তু ভারত বরাবরই বলেছে, এটি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ফল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো ভূমিকা নেই।
এমন অবস্থায় ভারতের পার্লামেন্টে বিরোধী দল সরকারের ব্যাখ্যা দাবি করে চাপ সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় বাণিজ্য সম্পর্কও শীতল হয়ে উঠেছে। সম্প্রতি ট্রাম্প এমনকি দাবি করেছেন, ভারত-পাকিস্তান সংঘাতে অন্তত সাতটি যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে, যদিও কোনো প্রমাণ দেননি।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক অধ্যাপক অনিন্দ্যজ্যোতি মজুমদারের ভাষায়, “যদি সত্যিই এই ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে তার প্রভাব দুই দেশের সম্পর্কে পড়বেই। খেয়াল রাখতে হবে, ট্রাম্প ও মোদি—দুজনেই যথেষ্ট ইগো নিয়ে চলেন। ফলে ইগোর লড়াই আরও বাড়তে পারে। তবে তার আগে উভয় প্রশাসনের উচিত সত্যতা যাচাই করে প্রকাশ করা।”
সর্বশেষ আপডেট
আন্তর্জাতিক সংবাদ বিশ্লেষকদের মতে, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যে সাম্প্রতিক বাণিজ্যিক আলোচনা স্থগিত থাকায় এই খবর নতুন মাত্রা যোগ করেছে। যদিও সরকারি পর্যায় থেকে এ নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রশ্ন হচ্ছে, মোদি সত্যিই ট্রাম্পের ফোন ধরেননি, নাকি এটি কেবল কূটনৈতিক কৌশলের অংশ? এই নীরবতা কি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও সংকটময় করে তুলবে?
