সীমান্ত সুরক্ষায় পাকিস্তান-ইরান সেনাপ্রধানের যৌথ অঙ্গীকার

সন্ত্রাসবাদ নির্মূল ও সীমান্ত সুরক্ষায় যৌথ প্রচেষ্টা আরও জোরদারের অঙ্গীকার করেছে পাকিস্তান ও ইরান। মঙ্গলবার টেলিফোনে আলাপের সময় এ প্রতিশ্রুতি দেন পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির এবং ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আবদুররহিম মুসাভি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ইরানি দূতাবাস।

দূতাবাসের এক বিবৃতিতে বলা হয়, অভিন্ন সীমান্তকে সুরক্ষিত রাখতে দুই দেশের সামরিক নেতৃত্ব সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করতে আগ্রহী। তাঁর ভাষায়, “পাকিস্তান ও ইরান সীমান্তকে ভ্রাতৃত্ব, বন্ধুত্ব ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে রূপ দিতে চায়।”

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ জানায়, জেনারেল মুসাভি বলেছেন—তাঁরা সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগ চান। অন্যদিকে পাকিস্তানি সেনাপ্রধানও এতে সম্মতি জানিয়ে সীমান্তকে সহযোগিতা ও উন্নয়নের কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

আলোচনায় আরও উঠে আসে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক উত্তেজনার প্রসঙ্গ। মুসাভি ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থানের প্রশংসা করেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় মুনির ইরানের সহমর্মিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।

প্রসঙ্গত, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের ইসলামাবাদ সফরের কয়েকদিন পর এ টেলিফোন আলাপ অনুষ্ঠিত হলো। এর আগে চলতি মাসের শুরুতে দুই দেশ সীমান্তবর্তী এলাকায় সন্ত্রাসবিরোধী কার্যক্রম জোরদার করার বিষয়ে একমত হয়েছিল। প্রায় ৯০০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাকিস্তান-ইরান সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে জইশ আল-আদল ও বেলুচিস্তান লিবারেশন আর্মির মতো নিষিদ্ধ গোষ্ঠীর তৎপরতায় অস্থিতিশীল হয়ে আছে।

সাম্প্রতিক আপডেট: আঞ্চলিক কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দুই দেশের এ সামরিক সমন্বয় সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সহযোগিতাও বাড়াতে পারে। একইসঙ্গে এটি দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ইস্যুতেও প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রশ্ন থেকে যায়—পাকিস্তান-ইরানের এই যৌথ অঙ্গীকার কি সত্যিই সীমান্তে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও স্থিতিশীলতা আনতে পারবে?

Next News Previous News