হাসপাতালে খোশগল্পে খায়রুল-শাজাহান খান
রাজধানীর শাহবাগের বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএমইউ) হাসপাতালের প্রিজন সেলে খোশ মেজাজে সময় কাটাচ্ছেন কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ আসামি। তাঁদের মধ্যে আছেন সাবেক মন্ত্রী, সাবেক বিচারপতি ও চিকিৎসক নেতা। অভিযোগ উঠেছে, তারা হাসপাতালের শয্যা ভাগাভাগি করে একসঙ্গে আড্ডা দিচ্ছেন, খোশগল্পে মেতে উঠছেন, এমনকি বাইরের খাবারও খাচ্ছেন।
একসঙ্গে আড্ডা ও আলোচনায়
হাসপাতালের সিসিইউ-২ ইউনিটে পাশাপাশি শয্যায় রাখা হয়েছে তাঁদের। ফলে নিয়মিত কথাবার্তা, খোশগল্প ও আড্ডা চলছে অনায়াসে। হাসপাতালের ভেতরে তাঁদের আত্মীয়স্বজন ও অনুসারীরা আসছেন পরিচয়ের মাধ্যমে, কেউ কেউ খাবারও পৌঁছে দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের নজরে আসার পর কঠোরতা আরোপ করা হয়েছে।
কঠোরতা আরোপ
হাসপাতালের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, কয়েকদিন আগে বাইরের খাবার পৌঁছে দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রিজন সেলের নিরাপত্তায় নতুন নিয়ম জারি হয়। এখন থেকে নির্দিষ্ট পরিচয় ছাড়া প্রবেশের সুযোগ নেই। নিরাপত্তা জোরদার করতে বদলি করা হয়েছে দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষীদেরও।
রোগীদের অভিযোগ
হাসপাতালের অন্য রোগীদের স্বজনদের অভিযোগ, হঠাৎ করে কড়াকড়ি আরোপের কারণে সাধারণ রোগীদের দেখতে যেতে ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। তারা জানান, এর আগে একাধিকবার দেখেছেন বিভিন্ন ব্যক্তি এসে ওই আসামিদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেছেন এবং আলাপ করেছেন।
গ্রেপ্তারের প্রেক্ষাপট
গত বছর থেকে পর্যায়ক্রমে গ্রেপ্তার হন এই তিনজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়ে প্রায় নিয়মিত চিকিৎসার আড়ালে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আবার কারও বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
শেষকথা
কারাগারের নিয়ম ভঙ্গ করে হাসপাতালেই আরাম-আয়েশে সময় কাটানোর এই অভিযোগ জনমনে প্রশ্ন তুলছে। বিশেষ সুবিধা পেয়ে তাঁরা যদি রাজনৈতিক কার্যক্রম বা ষড়যন্ত্র চালিয়ে যান, তবে কারাগারের ভেতর-বাহিরের সীমারেখা কোথায়?
