৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক | আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০২৫, ১৮:৩৭

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার জন্য অবস্থানরত ছয় হাজারের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করেছে মার্কিন কর্তৃপক্ষ। স্টেট ডিপার্টমেন্ট জানায়, আইন লঙ্ঘন, ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া, নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গাড়ি চালানো, চুরি এবং ‘সন্ত্রাসবাদে সহায়তা’-এর অভিযোগে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

যদিও ‘সন্ত্রাসবাদে সহায়তা’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে তা স্পষ্ট করেনি মার্কিন কর্তৃপক্ষ। তবে অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষার্থী ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন দাবি করছে, এদের আচরণকে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবে দেখা হয়েছে।

ভিসা বাতিলের সংখ্যা ও অভিযোগ

  • প্রায় ৪ হাজার ভিসা বাতিল হয়েছে আইন ভঙ্গের কারণে।
  • ২০০–৩০০ ভিসা বাতিল হয়েছে ‘আইএনএ ৩বি’ আইনের আওতায়, যা সন্ত্রাসবাদী কার্যক্রমে সম্পৃক্ততা বা সহায়তার অভিযোগে প্রযোজ্য।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও কংগ্রেসে বলেন, “জানুয়ারি থেকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। এখনো হয়তো আরও অনেক ভিসা বাতিল করতে হবে। যারা অতিথি হয়ে এসেও আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছেন, তাঁদের ভিসা আমরা বাতিল করতে থাকব।”

বিতর্ক ও সমালোচনা

এই পদক্ষেপকে অভিবাসন ও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ডেমোক্র্যাটরা এটিকে ‘ন্যায্য প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে’ পদক্ষেপ বলে সমালোচনা করেছেন।

এর আগে শিক্ষার্থীদের ভিসা সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত যাচাইয়ের অংশ হিসেবে আবেদনকারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ‘পাবলিক’ করে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রবিরোধী কোনো পোস্ট বা মতাদর্শ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছিল।

প্রেক্ষাপট

‘ওপেন ডোরস’ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষে ২১০টির বেশি দেশ থেকে ১১ লাখের বেশি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী মার্কিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি হয়েছিলেন।

❓প্রশ্ন: এই সিদ্ধান্ত কি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার পরিবেশ সুরক্ষিত করবে, নাকি আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভয়ের সংস্কৃতি তৈরি করবে?

Next News Previous News