দীর্ঘ সংঘাতের অবসান: আর্মেনিয়া-আজারবাইজান শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর

দশকের পর দশক ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজান হোয়াইট হাউসে এক ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত এই অনুষ্ঠানে দুই দেশের শীর্ষ নেতারা করমর্দনের মাধ্যমে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেন।

চুক্তি স্বাক্ষরের মুহূর্তকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট “ঐতিহাসিক” হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, “এটি দীর্ঘ সময় নিয়েছে”। তাঁর ভাষায়, “আজ আমরা ককেশাসে শান্তি প্রতিষ্ঠা করছি। বহু বছরের যুদ্ধ, দখলদারিত্ব ও রক্তপাতের অবসান ঘটিয়েছি। তারা ৩৫ বছর ধরে লড়াই করেছে, এখন তারা বন্ধু এবং দীর্ঘদিন বন্ধু থাকবে।”

চুক্তি অনুযায়ী, দুই দেশ চিরতরে যুদ্ধ বন্ধ করবে, পাশাপাশি ভ্রমণ, বাণিজ্য ও কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন করবে। এর ফলে গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন রুট খুলে যাবে এবং ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরও বৃদ্ধি পাবে।

আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রীর ভাষায়, “এটি দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।” এই চুক্তি কেবল রাজনৈতিক সমঝোতা নয়, বরং দুই জাতির জনগণের জন্য নতুন শান্তির দ্বারও খুলে দিচ্ছে।

প্রসঙ্গত, বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ অঞ্চলকে কেন্দ্র করে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজমান। আজারবাইজানের ভূখণ্ডের ভেতরে অবস্থিত এই এলাকা ১৯৯৪ সালের যুদ্ধের পর থেকে আর্মেনিয়াপন্থী বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে ছিল। এরপর ২০২০ সালেও তারা প্রাণঘাতী যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে।

বহু বছরের রক্তক্ষয়ী সংঘাত পেরিয়ে এই শান্তি চুক্তি সত্যিই কি দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব নিশ্চিত করতে পারবে? নাকি পুরনো ক্ষত আবারও জেগে উঠবে?

Next News Previous News