ঢাকায় রেলওয়ের জমি পেল দুটি মসজিদ ও একটি মন্দির

রাজধানীর জোয়ার সাহারা মৌজায় দুটি মসজিদ ও একটি মন্দিরের জন্য জমি বরাদ্দ দিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। রেলভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে মসজিদ ও মন্দির পরিচালনা কমিটির কাছে বরাদ্দপত্র হস্তান্তর করা হয়।

বরাদ্দ পাওয়া ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে—খিলক্ষেত রেলওয়ে জামে মসজিদ (৮,৭৬০ বর্গফুট), আন-নূর জামে মসজিদ (২,৪০৫ বর্গফুট) এবং খিলক্ষেত সার্বজনীন শ্রীশ্রী দুর্গা মন্দির (২,৪৫০ বর্গফুট)। নির্ধারিত প্রতীকী মূল্যের বিনিময়ে এসব জমি প্রদান করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, রেলপথ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ রেলওয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং মসজিদ-মন্দিরের সংশ্লিষ্টরা।

সেখানে বক্তব্য রাখেন উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির দেশ। কেউ যদি এই সম্প্রীতি বিনষ্টের চেষ্টা করে, তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের রোল মডেল। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান অপবিত্র করার চেষ্টা যারা করে, তাদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় নেই—তারা কেবল অপরাধী।” তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের বেহাত হওয়া দেবোত্তর সম্পত্তি উদ্ধারে সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ-মন্দির সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদারের কাজও শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, এই উদ্যোগগুলো সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্য আরও সুদৃঢ় করবে।

প্রশ্ন থেকে যায়—এমন উদ্যোগ কি সত্যিই মাঠপর্যায়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে? নাকি এখনও কিছু জায়গায় শঙ্কা থেকে যাবে?

Next News Previous News