ইরানের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার করল অস্ট্রেলিয়া: হামলার নির্দেশের অভিযোগে বড় কূটনৈতিক সিদ্ধান্ত
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী ক্যানবেরায় সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দিয়েছেন—দেশটির ভেতরে ইহুদিবিরোধী হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “এটি সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। অস্ট্রেলীয় সরকার কঠোর ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই হামলার লক্ষ্য ছিল অস্ট্রেলিয়ার সামাজিক সম্প্রীতি নষ্ট করা এবং বিভেদ সৃষ্টি করা। একই সঙ্গে তেহরানে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার দূতাবাসের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে এবং কূটনীতিকদের তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার জন্য আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া শুরু করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত বছরের অক্টোবরে সিডনির একটি রেস্তোরাঁ এবং ডিসেম্বরে মেলবোর্নের একটি সিনাগগে হামলা হয়, যেগুলোকে কেন্দ্র করেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
অস্ট্রেলিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ইরানের রাষ্ট্রদূত ও তাঁর তিন সহকর্মীকে “পারসোনা নন গ্রাটা” ঘোষণা করা হয়েছে এবং সাত দিনের মধ্যে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথমবার অস্ট্রেলিয়া কোনো রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করল।” পাশাপাশি তেহরান থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকেও ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তবে তিনি আরও জানান, সীমিত আকারে কিছু কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখা হবে। অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের ইরান সফর না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং যারা বর্তমানে সেখানে আছেন, তাদের দ্রুত ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।
সর্বশেষ আপডেট
আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, এ ঘটনাকে ঘিরে অস্ট্রেলিয়া ও ইরানের সম্পর্ক নতুন এক উত্তেজনাপূর্ণ অধ্যায়ে প্রবেশ করল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেই প্রভাব ফেলবে না, বরং আন্তর্জাতিক মহলেও নতুন আলোচনার জন্ম দেবে।
দর্শকদের জন্য প্রশ্ন: আপনি কি মনে করেন, এ ধরনের পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলবে? নাকি এটি সাময়িক কূটনৈতিক উত্তেজনা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকবে?
