মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে বিশৃঙ্খলা করার সুযোগ নেই: সেলিমা রহমান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান বলেছেন, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিক্রি করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির কোনো সুযোগ নেই। তাঁর ভাষায়, “বর্তমানে কিছু সাংস্কৃতিক কর্মী ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বৈরশাসনের জন্য মায়াকান্না করছে।”
মানববন্ধনে বক্তব্য
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস) আয়োজিত মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র, যুবক, শ্রমিক, নারী-পুরুষসহ সর্বস্তরের মানুষ আন্দোলনে অংশ নিলেও তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সেদিন বহু হতাহতের দায় স্বৈরাচারী সরকারের।
শিল্পীদের প্রতি আহ্বান
সাংস্কৃতিক কর্মীদের উদ্দেশে সেলিমা রহমান বলেন, “আপনারা সজাগ হোন। শিল্পী হিসেবে আপনাদের কাজ হলো সমাজের সত্যচিত্র তুলে ধরা, সাধারণ মানুষের জীবন-সংগ্রামের কথা বলা।” তিনি অভিযোগ করেন, কিছু শিল্পী ব্যক্তিস্বার্থে কাজ করলেও প্রকৃত শিল্পচর্চার মাধ্যমে মানুষের অধিকার ও গণতন্ত্রকে জাগ্রত করতে হবে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
সেলিমা রহমান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন এবং রণাঙ্গনে যুদ্ধ করেছিলেন। বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং অন্যায়ের কাছে কখনও আপস করেননি।
তারেক রহমানের প্রসঙ্গ
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে চিকিৎসাধীন অবস্থায় থেকেও তিনি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করেছেন এবং আন্দোলনকে সফল নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, “আন্দোলন সফল হয়েছে, স্বৈরশাসক সরকার পালাতে বাধ্য হয়েছে।”
কর্মসূচি ঘোষণা
মানববন্ধন শেষে জাসাসের যুগ্ম আহ্বায়ক ও গীতিকার ইথুন বাবু ঘোষণা দেন, আগামী ২১ দিনের মধ্যে শিল্পকলা-সচিবালয় থেকে ফ্যাসিস্টদের অপসারণ না হলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মী শিবা শানুসহ নাট্য, অভিনয় ও চলচ্চিত্র জগতের অনেকে।
প্রশ্ন থেকে যায়— রাজনীতির ময়দানে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এই সম্পৃক্ততা ভবিষ্যতে কতটা প্রভাব ফেলবে?
