পানিতে ডুবে নয়, শ্বাসরোধে হত্যা—ইবির শিক্ষার্থী সাজিদের মৃত্যু ঘিরে নতুন মোড়
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর মৃত্যুর ঘটনায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। ময়নাতদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠিত ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে—সাজিদের মৃত্যু পানিতে ডুবে নয়, বরং তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৭ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহ আজিজুর রহমান হল-সংলগ্ন পুকুরে পাওয়া যায় সাজিদের নিথর দেহ। মৃত্যুর আগের দিন বিকেলেও তাকে ক্যাম্পাসে ঘুরতে দেখা গিয়েছিল। এমন অস্বাভাবিক মৃত্যুর খবরে তখনই উত্তাল হয়ে ওঠে পুরো ক্যাম্পাস।
শুরু থেকেই সাজিদের পরিবার এবং সহপাঠীরা বলে আসছিলেন, এটি নিছক দুর্ঘটনা নয়—বরং একটি ঠান্ডা মাথার পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁদের ভাষায়, “একজন দক্ষ সাঁতারু কীভাবে পুকুরে ডুবে মারা যায়?” সেই প্রশ্নই আন্দোলনের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।
প্রাথমিকভাবে শিক্ষার্থীরা ‘নিরাপদ ক্যাম্পাস’-এর দাবিতে প্রতিবাদে নামলেও, ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ মেলার পর তা রূপ নেয় জোরালো আন্দোলনে। ছাত্র সংগঠনগুলোর সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়েও।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গঠন করে পাঁচ সদস্যবিশিষ্ট একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি। তাদের তদন্তে জানা যায়, সাজিদকে যেদিন শেষবার দেখা গিয়েছিল, সেই রাতেও তার মোবাইলে কল করা হলে সেটি রিসিভ হয়। প্রথমে ফোনের লোকেশন ছিল শেখপাড়া বসন্তপুর এলাকায় এবং পরবর্তী সময়ে তা চলে আসে বিজ্ঞান ভবনের আশপাশে। এই দ্রুত অবস্থান পরিবর্তনকে ‘সন্দেহজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কমিটি।
কমিটি তাদের প্রতিবেদনে এ ঘটনাকে সরকার গঠিত উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটির মাধ্যমে পুনরায় যাচাই করার সুপারিশ করেছে, যাতে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন করা যায়।
এদিকে শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তারা মনে করেন এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। তাঁরা ধারাবাহিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি, বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি জানিয়ে আসছেন—
- পিবিআই বা সিআইডির মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে,
- হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে,
- ক্যাম্পাসে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে,
- সাজিদের পরিবারকে প্রশাসনিক ও আইনি সহায়তা দিতে হবে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ঘটনার তদন্ত কার্যক্রমকে কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। তবে এখনো কোনো গ্রেপ্তারের খবর মেলেনি।
সাজিদের মৃত্যু নিয়ে প্রশ্ন একটাই—এই নৃশংসতার পেছনে কারা? তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে? আর কতদিন শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ থাকবে?
