গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় ঐক্যের আহ্বান

গণতান্ত্রিক অধিকার ও ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে দীর্ঘ সংগ্রামের পর এখন সামনে এগিয়ে যাওয়ার সময়। রাজনৈতিক দলের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে যেন এই পথের অগ্রযাত্রায় কোনো বাধা তৈরি না হয়।

আন্তর্জাতিক গুম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় একজন স্থায়ী কমিটির সদস্য বলেন— “এ দেশের মানুষ ১৬ বছর ধরে গণতান্ত্রিক অধিকারের জন্য সংগ্রাম করেছে, রক্ত দিয়েছে। সেই অধিকারের মধ্যে সবচেয়ে বড় দাবি ছিল ভোটাধিকার। সেই ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার পথ এখন উন্মুক্ত হয়েছে। তাই এই পথে যেন আমরা আর কোনো কাঁটা না বিছাই, এ আহ্বান জানাচ্ছি।”

আলোচনায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, গণতান্ত্রিক ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া দলগুলোর ঐক্যে বিভেদ সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “আমরা তর্ক-বিতর্ক করছি, সংস্কারের জন্য আলোচনা করছি। কিন্তু নির্বাচনকে ঘিরে কিছু পক্ষ অযথা ধোঁয়াশা তৈরি করছে।”

গুম প্রসঙ্গে তিনি আশ্বাস দিয়ে বলেন, জনগণ সমর্থন দিলে প্রথমেই আইন প্রণয়নসহ গুম প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এমন বাংলাদেশ হবে যেখানে আর কাউকে গুমের শিকার হতে হবে না।

নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপ প্রসঙ্গে তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন এটিকে সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, “এই রোডম্যাপ ঘোষণার জন্যই আমরা গত এক বছর ধরে আলোচনার মাধ্যমে একত্রিত হতে পেরেছি। তাই এখন নির্বাচন নিয়ে দ্বিধা বা অনিশ্চয়তা দেখানো সমীচীন নয়।”

সাম্প্রতিক আপডেট

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সামনে আসন্ন নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দলগুলোর পারস্পরিক আস্থা ও আলোচনার পরিবেশ জোরদার করা জরুরি। একই সঙ্গে গুম ও মানবাধিকার ইস্যুতে জনগণের আস্থা ফেরানো রাজনৈতিক দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রশ্ন রইল

ভোটাধিকার ও গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু হলেও সামনে কি রাজনৈতিক ঐক্য বজায় রাখা সম্ভব হবে? নাকি বিভেদের রাজনীতি আবারও এই পথকে কঠিন করে তুলবে?

Next News Previous News