ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার আ. লীগ নেতা কৃষ্ণ চন্দ্র এখন এনসিপিতে

রংপুরে মাদক ও অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার এক সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা নতুন করে এনসিপির নেতৃত্বে যুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

পদপ্রাপ্তির ঘটনা

১৮ আগস্ট রংপুর সদর উপজেলা এনসিপির পক্ষ থেকে সদ্যপুষ্করনী ইউনিয়নের ১৫ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক করা হয় কৃষ্ণ রঞ্জন বর্মন স্বাধীনকে। খবরটি ছড়িয়ে পড়তেই রাজনৈতিক মহল ও সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।

পূর্ব ইতিহাস

কৃষ্ণ রঞ্জন বর্মন স্বাধীন ছিলেন আওয়ামী লীগের রংপুর সদর উপজেলার সাংগঠনিক সম্পাদক এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। মাদক ও অন্যান্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে তাকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

থানা সূত্র জানায়, জুলাই-আগস্ট বিপ্লব দমনকালে অস্ত্র ও অর্থ সরবরাহ এবং হামলায় অংশ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তাছাড়া গেলো বছর ইয়াবাসহ যৌথ বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন তিনি। বর্তমানে তার নামে মাদক সেবন ও ব্যবসা সংক্রান্ত মামলা চলমান রয়েছে।

প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন—একজন বহিষ্কৃত এবং মাদক মামলার আসামিকে যদি নতুন দল এনসিপি দায়িত্ব দেয়, তবে জুলাই বিপ্লবের চেতনা প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এনসিপির ব্যাখ্যা

সদর উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী তওহিদ হোসেন সাদ্দাম বলেন, “তিনি ২০২০ সালেই আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। এরপর আর যোগ দেননি। তার বিরুদ্ধে করা মামলাগুলো চক্রান্তমূলক।”

এনসিপির যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক (উত্তরাঞ্চল) আসাদুল্লাহ আল গালিব জানান, “স্বাধীন জুলাই-বিরোধী ছিলেন—এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। যদি পরে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তবে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

শেষকথা

প্রশ্ন এখন—যে দল নিজেকে নতুন ধারা ও বিপ্লবের চেতনা ধারণকারী বলে দাবি করছে, তারা যদি বিতর্কিত অতীতের ব্যক্তিকে নেতৃত্বে স্থান দেয়, তাহলে সাধারণ মানুষ সেই দলকে কতটা বিশ্বাস করবে?

Next News Previous News