ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ: প্রশ্ন তুললেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক
একটি চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন তুলেছেন গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান। তিনি জানতে চেয়েছেন, “সবচেয়ে প্রভাবশালী ছাত্র উপদেষ্টা সংস্কার ও বিচার না করে কেন পদত্যাগ করে দল গঠন করলেন?”
রাশেদ খানের মতে, চেয়ারে থাকলে যা করা যেত, আজ তা চিৎকার করেও করা যাবে না, এমন পরিস্থিতি কি অনুমেয় ছিল?
তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্টে বলেন, “এতোদিন প্রধান উপদেষ্টা খুব ভাল ছিলেন। কিন্তু এখন তিনি গণঅভ্যুত্থানের চেতনার বিরোধী শক্তি হয়ে গেছেন। অথচ কিছুদিন আগেও তিনি তাদের কাছে অত্যন্ত প্রিয় ছিলেন। তাদের যন্ত্রণায় সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা পর্যন্ত করা যেত না। অথচ এখন তারা প্রধান উপদেষ্টাকে নগ্ন ভাষায় সমালোচনা করছে!”
রাশেদ খানের আরও প্রশ্ন, “নির্বাচন হয়ে গেলে তো তাদের বিচারপতি, ডিসি বা ভিসি নিয়োগের খবরদারি থাকবে না। তাই যেকোনভাবে সংস্কার ও বিচারের দোহাই দিয়ে নির্বাচন আটকাতে হবে। কিন্তু সংস্কার ও বিচার না করে কেন সবচেয়ে প্রভাবশালী ছাত্র উপদেষ্টা পদত্যাগ করে দল গঠন করলেন?”
তিনি সতর্ক করে বলেন, “শোনা যাচ্ছে, সামনে আরও কিছু পদত্যাগ হতে পারে। তখন সরকার আরও দুর্বল হবে। নতুন সংবিধান চান, তবে মুজিবাদী সংবিধান মেনে শপথ নিলে তখন মনে হয়নি? সংবিধানকে স্বীকৃতি দিয়ে আবার তাকে অবৈধ বলা যাবে?”
রাশেদ খান দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে উল্লেখ করেন, “নিত্য-নতুন দাবি করে নির্বাচন আটকানোর চেষ্টা করলে দেশের পরিস্থিতি ভয়াবহ হতে পারে। তাই একগুঁয়ে মনোভাব না দেখিয়ে ঐক্যমতের ভিত্তিতে সংস্কার ও বিচারের পথপ্রক্রিয়া আবিষ্কার করে নির্বাচনে অংশগ্রহণের প্রস্তুতি নেওয়া উচিত।”
তিনি ভোট প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, “ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের অধীনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন না তো, তবে পরবর্তীতে অন্য কোনো নেতার অধীনে অংশগ্রহণ করতে চাইবেন? নির্বাচন কমিশনের ঘোষিত রোডম্যাপকে সাধুবাদ জানানো কেন সম্ভব হচ্ছে না?”
রাশেদ খানের এই মন্তব্য রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
প্রশ্ন উঠছে—কীভাবে বর্তমান ছাত্র উপদেষ্টাদের পদত্যাগ রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে? এবং সরকারের স্থিতিশীলতা কতটা ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে?
