ট্রাম্প-পুতিন আলাস্কা বৈঠক ঘিরে ভূখণ্ড ফেরত আলোচনার ইঙ্গিত

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চোখ এখন আলাস্কার দিকে, যেখানে এই সপ্তাহের শেষের দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মুখোমুখি বৈঠক হওয়ার কথা। বৈঠকের আগেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, তিনি রাশিয়া দখলকৃত ইউক্রেনের কিছু ভূখণ্ড ফেরত আনার চেষ্টা করবেন।

হোয়াইট হাউসে সংবাদ সম্মেলনে তাঁর ভাষায়, ‘রাশিয়া ইউক্রেনের একটি বড় অংশ দখল করেছে। তারা গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণে রেখেছে। আমরা ইউক্রেনের কিছু ভূখণ্ড ফেরত পাওয়ার চেষ্টা করব।’

ট্রাম্প বলেন, পুতিনের সঙ্গে বৈঠকের মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই তিনি বুঝতে পারবেন কোনো অগ্রগতি সম্ভব কি না। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, রাশিয়া-ইউক্রেনের মধ্যে ভূমি বিনিময়ের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না, যদিও কোন এলাকা ছেড়ে দেওয়া হতে পারে তা এখনও অনিশ্চিত।

তিনি আরও জানান, আলোচনায় যদি পুতিন ‘যৌক্তিক সমঝোতার’ প্রস্তাব দেন, তবে সেটি ইউরোপীয় নেতাদের অবহিত করবেন এবং সম্মানবোধ থেকে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গেও কথা বলবেন। ‘আমি প্রথমেই তাকে কল দেবো, পরে হয়তো বলব লড়াই চালিয়ে যাও বা চুক্তির পথে এগোনো যায়,’ বলেন তিনি।

ইউরোপীয়ান কমিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজা কাল্লাস বিবিসিকে বলেন, পুতিন যেন পুরনো প্রস্তাব—ভূখণ্ড ভাগ করার—পথে হাঁটতে চান। তাঁর ভাষায়, ‘ইউক্রেন রাজি না হলে কোনো চুক্তি ইউরোপ গ্রহণ করবে না।’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, আলোচনায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টকে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

ক্রেমলিন অবশ্য জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দেয়নি। পুতিনের দাবি, তাঁর সঙ্গে বৈঠকের জন্য যে শর্তগুলো রয়েছে, তা এখনও পূরণ হয়নি। অন্যদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্টের মন্তব্য, কিয়েভের অংশগ্রহণ ছাড়া যেকোনো সমঝোতা হবে ‘মৃত সিদ্ধান্তের’ মতো।

আগামী বুধবার জেলেনস্কির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট, ট্রাম্প ও ইউরোপীয় নেতাদের ভার্চুয়াল বৈঠক হবে। জার্মানির চ্যান্সেলর ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ন্যাটো প্রধানসহ নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন, যাতে ট্রাম্প-পুতিন বৈঠকের আগে মস্কোর ওপর কৌশলগত চাপ তৈরির বিষয়টি আলোচনায় আসে।

ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্য ও কানাডার প্রধানমন্ত্রীরা ফোনালাপে একমত হয়েছেন যে, ইউক্রেনকে সঙ্গে নিয়ে শান্তি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হতে হবে, চাপিয়ে নয়। ডাউনিং স্ট্রিট জানিয়েছে, তারা ট্রাম্প ও জেলেনস্কির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করবে।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের যুদ্ধ তীব্র আকার নিয়েছে। রাশিয়া বর্তমানে ইউক্রেনের প্রায় ২০ শতাংশ ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণ করছে। বিমান হামলা অব্যাহত থাকলেও বড় ধরনের বিজয় অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে মস্কো। এ যুদ্ধে দুই পক্ষেরই ব্যাপক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে, যদিও সঠিক সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।

এখন প্রশ্ন—আলাস্কা বৈঠক কি সত্যিই ইউক্রেন সংকটের সমাধানে কোনো নতুন পথ দেখাবে, নাকি আগের মতোই অচলাবস্থায় আটকে যাবে?

Next News Previous News