গুম প্রতিরোধে নীতিগত অনুমোদন, তিন স্থলবন্দর বন্ধ, লালনের মৃত্যু দিবস ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত

দেশে গুম প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে উপদেষ্টা পরিষদ। ‘গুম প্রতিরোধ, প্রতিকার ও সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়াকে নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এখনো চূড়ান্ত অনুমোদন আসেনি, এ বিষয়ে আরও আলোচনা শেষে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

গুমের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির প্রস্তাব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব জানিয়েছেন, খসড়া অধ্যাদেশে গুমকে চলমান অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। গোপন আটক কেন্দ্র ব্যবহারকেও শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, “বাংলাদেশে যেন আর কোনো দিন গুম না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার কার্যকর আইন প্রণয়নের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।”

এতে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন, ১২০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার বাধ্যবাধকতা, ভুক্তভোগী ও সাক্ষীর সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ ও আইনগত সহায়তার নিশ্চয়তার বিধান রাখা হয়েছে। আন্তর্জাতিক ও জাতীয় মানবাধিকার সংগঠনের মতামতও খসড়া প্রণয়নের সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।

তিন স্থলবন্দর বন্ধ, একটির কার্যক্রম স্থগিত

একই বৈঠকে দীর্ঘদিন অকার্যকর থাকা তিনটি স্থলবন্দর—চিলাহাটি, দৌলতগঞ্জ ও তেগামুখ—চূড়ান্তভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আর বাল্লা স্থলবন্দরের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে। সরকারের ব্যাখ্যা, অনেক স্থলবন্দরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো না থাকায় কার্যত কোনো বাণিজ্য হয় না, অথচ পরিচালনায় বাড়তি ব্যয় হয়। বর্তমানে কার্যক্রমহীন আরও চারটি স্থলবন্দর নিয়ে পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত হবে।

লালনের মৃত্যু দিবস ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত

সভায় বাউল সাধক ফকির লালন শাহের মৃত্যু দিবসকে জাতীয়ভাবে ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত দিবস হিসেবে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রেসসচিব বলেন, “লালন কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি ছিলেন দার্শনিক ও মানবতার সাধক। তাঁর গান যুগ যুগ ধরে বাংলার মানুষের অন্তরে সাড়া জাগিয়েছে।”

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের প্রত্যাশা, এ স্বীকৃতির ফলে লালনচর্চা ও গবেষণা নতুন মাত্রা পাবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরা সহজ হবে। যদিও আলোচনায় আরও কয়েকজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের নাম উঠে এসেছে, চূড়ান্তভাবে কেবল লালনের তিরোধান দিবসকে ‘ক’ শ্রেণীভুক্ত করার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে।

শেষকথা

গুম প্রতিরোধে কড়া আইন, অকার্যকর স্থলবন্দর বন্ধ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি— একসাথে তিনটি ভিন্ন সিদ্ধান্ত দেশের নীতিনির্ধারণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, প্রস্তাবিত অধ্যাদেশ কার্যকর হলে সত্যিই কি গুমের মতো অপরাধ বন্ধ হবে এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলো যথাযথ সুরক্ষা পাবে?

Next News Previous News