চুরি হয়ে গেছে ভাসানী সেতুর ৩১০ মিটার তার, নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি

উদ্বোধনের দ্বিতীয় রাতেই চরম নিরাপত্তাহীনতায় পড়েছে গাইবান্ধার বহুল প্রতীক্ষিত ‘মওলানা ভাসানী সেতু’। বৈদ্যুতিক ল্যাম্পপোস্ট থেকে ৩১০ মিটার তার চুরি হয়ে যাওয়ায় পুরো সেতুটি অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে।

চুরির ঘটনায় অন্ধকারে সেতু

তিস্তা নদীর ওপর নির্মিত ১৪৯০ মিটার দীর্ঘ ভাসানী সেতু বৃহস্পতিবার রাতেই অন্ধকারে ডুবে যায়। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতর (এলজিইডি) জানিয়েছে, চুরি হওয়া তারের মূল্য প্রায় ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা।

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী উজ্জল চৌধুরী জানান, উদ্বোধনের পরদিন রাতেই দুর্বৃত্তরা ল্যাম্পপোস্ট থেকে ৩১০ মিটার তার কেটে নিয়ে যায়। ফলে সেতুর আলোকসজ্জা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় এবং যানবাহন ও পথচারীরা ঝুঁকিতে পড়ে।

জনগণের ক্ষোভ ও দাবি

পথচারী ও চালকরা জানিয়েছেন, সন্ধ্যার পর অন্ধকারে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি সবসময় রয়ে যাচ্ছে। তাদের দাবি, দ্রুত নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে আলোকসজ্জা ফিরিয়ে আনা হোক এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয়দের ভাষায়, “মওলানা ভাসানী সেতুটি এখন কেবল যাতায়াতের মাধ্যম নয়, এটি একটি দর্শনীয় স্থানও। প্রতিদিন হাজারো মানুষ ভিড় করছেন। তাই সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।”

আইনগত ব্যবস্থা

এলজিইডি জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন। সুন্দরগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হাকিম আজাদ বলেছেন, অভিযোগ পেলে গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে দুর্বৃত্তদের শনাক্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সেতুর উদ্বোধন

উল্লেখ্য, ২০ আগস্ট দুপুরে ‘মওলানা ভাসানী সেতু’ উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর থেকেই প্রতিদিন হাজারো মানুষ সেতুটি দেখতে ভিড় করছেন। কিন্তু এ ধরনের চুরি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দর্শনার্থীদের আনন্দ ভ্রমণ প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

প্রশ্ন হচ্ছে—এত ব্যয়বহুল ও গুরুত্বপূর্ণ একটি সেতুতে কি আরও আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা উচিত নয়?

Next News Previous News