লিখিত দলিল না থাকলে জামায়াত বলত, দেশটাও তারা স্বাধীন করেছে : উর্মি

জুলাই গণআন্দোলনের কৃতিত্ব কোনো একক ব্যক্তি বা দলের নয় বলে মন্তব্য করেছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুল নৌরিন উর্মি। তিনি বলেছেন, দেশের বিভিন্ন ঐতিহাসিক আন্দোলন ও রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহে কিছু দল নিজেদের ভূমিকা অতিরঞ্জিতভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করে। একই সঙ্গে তিনি বহুদলীয় গণতন্ত্র, রাজনৈতিক সহাবস্থান এবং জনমুখী রাজনীতির পক্ষে মত দেন।

গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারে বক্তব্য

একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে উর্মি বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এমন কিছু দল রয়েছে যারা প্রায় সব বড় আন্দোলনের কৃতিত্ব নিজেদের বলে দাবি করার চেষ্টা করে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, রাজনৈতিক বাস্তবতা ও ঐতিহাসিক তথ্য-প্রমাণের সঙ্গে এসব দাবির অনেক সময় মিল পাওয়া যায় না।

তিনি বিশেষভাবে জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে বলেন, দলটি বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক সুযোগ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করেছে। তবে এ বক্তব্য তার ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক মতামত হিসেবে এসেছে এবং এ বিষয়ে জামায়াতের কোনো প্রতিক্রিয়া তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

‘জুলাই কোনো একক দলের নয়’

জান্নাতুল নৌরিন উর্মি বলেন, জুলাই গণআন্দোলন দেশের সাধারণ মানুষের আন্দোলন ছিল। তার মতে, এ আন্দোলনের কোনো একক ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা একক মালিকানা নেই। বরং এটি ছিল বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে গড়ে ওঠা একটি জাতীয় আন্দোলন।

তিনি বলেন, আন্দোলনের চেতনা শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী মানুষ, মধ্যবিত্ত পরিবার, পেশাজীবী এবং সাধারণ নাগরিক—সবাই বহন করেছেন। ফলে এর কৃতিত্বও সমষ্টিগতভাবে জনগণের প্রাপ্য।

সমন্বয়কদের নিয়েও হতাশা

সাক্ষাৎকারে জুলাই আন্দোলনের সময় আলোচনায় আসা কিছু তরুণ সমন্বয়কের প্রতিও হতাশা প্রকাশ করেন উর্মি। তিনি বলেন, আন্দোলনের সময় যেসব তরুণ নেতৃত্ব জনগণের মধ্যে আস্থা তৈরি করেছিলেন, তাদের অনেকের কাছ থেকে মানুষ পরবর্তীতে প্রত্যাশিত ভূমিকা দেখতে পায়নি।

তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, তরুণ নেতৃত্ব ভবিষ্যতে জনমুখী রাজনীতি এবং জনগণের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মাধ্যমে সেই আস্থা পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।

নারীর স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক দর্শন

উর্মি অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক শক্তি ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে এবং নারীর স্বাধীনতা ও অধিকারকে সীমিত করার প্রবণতা দেখায়। তিনি মনে করেন, আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থায় নারী-পুরুষের সমান সুযোগ এবং স্বাধীন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তার মতে, গণতন্ত্রের প্রকৃত বিকাশ তখনই সম্ভব যখন সব নাগরিক সমান মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করবে।

বহুদলীয় গণতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান

ছাত্রদলের এই নেত্রী বলেন, তিনি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চান যেখানে শক্তিশালী বহুদলীয় গণতন্ত্র থাকবে এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের দল গণতান্ত্রিক পরিবেশে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।

তিনি বলেন, একটি মাত্র রাজনৈতিক শক্তির আধিপত্য নয়, বরং জনগণের ভোট ও মতামতের ভিত্তিতে রাজনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হওয়া প্রয়োজন।

জুলাই আন্দোলনের উত্তরাধিকার

উর্মির মতে, জুলাই আন্দোলনের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো জনগণের ঐক্য ও অধিকার সচেতনতা। তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া শহীদ ও আহতদের ত্যাগ দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান পাবে।

তার ভাষায়, জুলাই কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর নয়; এটি দেশের সব মানুষের আন্দোলন এবং এর উত্তরাধিকারও পুরো জাতির।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জুলাই আন্দোলনের ইতিহাস, নেতৃত্ব এবং কৃতিত্ব নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে বিতর্ক ভবিষ্যতেও চলতে পারে। তবে আন্দোলনের প্রকৃত মূল্যায়নের জন্য ইতিহাসভিত্তিক গবেষণা, তথ্য-প্রমাণ এবং নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

Source: Based on statements made by Jannatul Naurin Urmi in a media interview, as reported by a Bangladeshi news outlet.

Next News Previous News