চীনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও জোরদারে কিম জং উনের ‘অটল ইচ্ছা’
চীনের সঙ্গে কৌশলগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। তিনি বলেছেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও সমাজতান্ত্রিক আদর্শভিত্তিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও আরও শক্তিশালী করা হবে। বিশ্লেষকদের মতে, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভূরাজনীতির পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে বেইজিং-পিয়ংইয়ং সম্পর্কের এই ঘনিষ্ঠতা পূর্ব এশিয়ার কূটনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।
শি জিনপিংকে শুভেচ্ছা বার্তায় কিমের বার্তা
চীনের কমিউনিস্ট পার্টি প্রতিষ্ঠার ১০৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে পাঠানো এক শুভেচ্ছা বার্তায় কিম জং উন দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ বুধবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে।
বার্তায় কিম বলেন, উত্তর কোরিয়া ও চীনের মধ্যকার বন্ধুত্ব কেবল কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়; এটি দীর্ঘ ইতিহাস, পারস্পরিক আস্থা এবং অভিন্ন রাজনৈতিক দর্শনের ওপর প্রতিষ্ঠিত। তিনি এই সম্পর্ককে আরও এগিয়ে নেওয়াকে তার সরকার ও শাসক দলের অন্যতম প্রধান নীতি হিসেবে উল্লেখ করেন।
পিয়ংইয়ং শীর্ষ বৈঠককে ‘ঐতিহাসিক’ আখ্যা
সম্প্রতি পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে কিম জং উন বলেন, এই বৈঠক দুই দেশের মধ্যে কমরেডসুলভ বন্ধুত্ব এবং পারস্পরিক আস্থাকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তার মতে, এই সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ ও স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে।
উত্তর কোরিয়ার নেতৃত্ব মনে করছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে চীন ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় উভয় দেশের কৌশলগত স্বার্থ রক্ষায় সহায়ক হবে।
সাত বছর পর শি জিনপিংয়ের উত্তর কোরিয়া সফর
দক্ষিণ কোরিয়ার বার্তা সংস্থা ইয়োনহাপের তথ্য অনুযায়ী, গত ৮ ও ৯ জুন উত্তর কোরিয়া সফর করেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। প্রায় সাত বছর পর এটি ছিল তার প্রথম পিয়ংইয়ং সফর।
এই সফরকে দুই দেশের সম্পর্কের জন্য তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে উত্তর কোরিয়া আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা চাপের মুখে রয়েছে।
কৌশলগত সহযোগিতা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা
সফরকালে দুই দেশের নেতারা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা জোরদারে একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করেন বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, শি জিনপিং কূটনৈতিক সহযোগিতার পাশাপাশি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সামরিক পর্যায়ের যোগাযোগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আঞ্চলিক রাজনীতিতে নতুন বার্তা
বিশেষজ্ঞদের মতে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার ঘনিষ্ঠতা শুধু দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিষয় নয়; এটি পূর্ব এশিয়ার বৃহত্তর কৌশলগত ভারসাম্যের সঙ্গেও জড়িত। যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া এবং জাপানের সঙ্গে চলমান নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে এই সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।
তাদের মতে, বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সহযোগিতা যত বাড়বে, ততই অঞ্চলটির কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন আলোচনা ও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে।
ভবিষ্যৎ সহযোগিতার ইঙ্গিত
কিম জং উনের সাম্প্রতিক বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, উত্তর কোরিয়া চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে ভবিষ্যৎ কৌশলগত পরিকল্পনার অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করছে। একইভাবে চীনও প্রতিবেশী দেশটির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ বজায় রাখতে আগ্রহী বলে বিভিন্ন কূটনৈতিক পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।
দুই দেশের নেতাদের সাম্প্রতিক বার্তা ও বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী বছরগুলোতে বেইজিং-পিয়ংইয়ং সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
Source: Based on reporting from Al Jazeera, KCNA and Yonhap News Agency.
